নারী শিক্ষার বিকাশ এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষে ডিগ্রি বা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা করছে বর্তমান সরকার। এর পাশাপাশি যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের বিশেষ স্কলারশিপ বা বৃত্তি দেওয়া হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের সব জায়গার বৈষম্য দূর করা। সেই লক্ষে কৃষিকে আধুনিকায়ন, শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বিশেষ উপহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতের বাজেট মোট জিডিপির পাঁচ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য পর্যায়ক্রমে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ৩০ লাখ শিশুকে পর্যায়ক্রমে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে বলেও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিকে সনাতনী অবস্থা থেকে বের করে প্রযুক্তিঘেরা করতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’–এর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসা হবে। কৃষিকে লাভজনক করতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে এবং দেশীয় কৃষিপণ্যের নতুন বাজার খুঁজে পেতেও কাজ করছে সরকার। চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশের কাঁঠাল চীনে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার ধ্বংসের জন্য যারা দায়ি, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার এবং সে লক্ষে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে।
শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে ধীরে ধীরে পুঁজিবাজারের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং তা ভালোর দিকে যাচ্ছে।
