শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক গুণসম্পন্ন ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। তাই এই কারিগরদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষকদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানেরও আশ্বাস দেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এদিন সকালে সম্মেলন কেন্দ্রে পৌঁছালে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নাচে-গানে বাংলাদেশের জন্য এক স্বপ্নের ছবি ফুটিয়ে তোলে শিশুরা—যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদের কোনো দেয়াল থাকবে না, ভালোবাসাই হবে মানুষের একমাত্র ভাষা।

অনুষ্ঠানে এসে শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় খোশগল্পে মেতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিশুদের তৈরি করা বিভিন্ন উদ্ভাবনী স্টল ঘুরে দেখেন এবং তাদের মুখ থেকে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নের গল্প শোনেন। পরে তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী এবং দেশসেরা শিক্ষকদের হাতে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে আঙিনায় গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বার্তা দেন, শিশুর হাতে শুধু বই নয়, তুলে দিতে হবে সবুজের চেতনা ও দেশ গড়ার স্বপ্ন।
এই কর্মসূচির আওতায় বুধবার একযোগেই দুই লাখ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। এর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি শিশুকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ করার আহবান জানান তিনি।

শিক্ষাকে আনন্দময় করার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সরকার এখন ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাদান পদ্ধতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ সুন্দর করে গড়ে তুলতে শিশুদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। এই লক্ষ্যে শিশুদের পাঠ্যক্রমে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো নতুন করে যুক্ত করা হবে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তায় একটি বড়ো ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কিছু সমস্যা রয়েছে, যা আমাদের জানা আছে। সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সেসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। আপনারা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার এই মহান দায়িত্বে নিজেদের নিয়োজিত রাখুন, সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।
