বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার কন্যা শিশু, যার বড় একটি অংশই জীবনের প্রারম্ভে বা অপ্রাপ্তবয়সে এই অন্ধকার জগতে পা রাখতে বাধ্য হচ্ছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্টের বরাতে উঠে এসেছে এই আতঙ্কজনক চিত্র।
তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশে যৌন পেশায় নিয়োজিতদের প্রায় ৪৫ শতাংশই শিশু বয়সে এই পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। প্রেমের ফাদ, চাকরির লোভ কিংবা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা স্পা সেন্টার ও আবাসিক হোটেলের আড়ালে অবুঝ কন্যা শিশুদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এই জঘন্য পেশায়।
রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টার, হোটেল কিংবা পতিতালয় থেকে প্রায়শই কন্যা শিশু উদ্ধারের খবর গণমাধ্যমে উঠে এলেও থামছে না এই অন্যায়। অপরাধীরা ও পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন জগত এবং পরিচিত স্বজনদের ব্যবহার করে নিত্যনতুন নীল নকশা তৈরি করছে।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, এই জঘন্য অপরাধের জাল বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রম খাতে বছরে প্রায় ২৩৬ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ মুনাফা তৈরি হয়, যার প্রায় ৭৩ শতাংশই, অর্থাৎ আনুমানিক ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা আসে এই বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ না কমার অন্যতম প্রধান কারণ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা রেশমিন নাহার আশা জানান, আইনের নানা ফাঁকফোকর গলে আসামিরা সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসে, যার ফলে বিচারে চরম বিলম্ব ও বাধা তৈরি হয়।
অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও শিশু অধিকার কর্মী ওয়াহিদা বানু বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করলেও এই শিশুদের সুরক্ষা প্রদান ও পুনর্বাসনে সরকারকেই মূল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আসামিরা কেন বারবার পার পেয়ে যায়, পুলিশ বলছে, আদালতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবেই বেশিরভাগ সময় মামলাগুলো টেকানো সম্ভব হয় না। ফলে দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে আসামিরা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, শুধু দু-একটি আলোচিত ঘটনার বিচার করাই যথেষ্ট নয়; বরং কন্যা শিশুদের রক্ষায় বাণিজ্যিক যৌন শোষণের প্রতিটি অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের মূল দাবি।
