যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তর ফাঁসের ঘটনায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পাঁচ কর্মচারীসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অসদুপায়ে চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে পরীক্ষার কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিত চক্রটি।
তবে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫৭ মিনিট আগে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি হাতেনাতে নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। এরপর ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হলে ছায়া তদন্তে নামে এসআরবি।
রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের সাত সদস্যকে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মচারী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম, এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম। এছাড়া চক্রের সঙ্গে যুক্ত মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজন নামের দুই চাকরিপ্রত্যাশীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর দিন অর্থাৎ ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে একটি গোপন মাধ্যম থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান নূর মোহাম্মদ। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে স্পষ্ট ছবি পাঠালে নূর মোহাম্মদ দ্রুত উত্তরপত্র তৈরি করেন। এরপর সেই উত্তরপত্র হোয়াটসঅ্যাপ ও ডিজিটাল মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্য এবং চুক্তিভুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তারা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে লেনদেন ও যোগাযোগ পরিচালনা করত।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ফাঁসে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মূল প্রশ্নপত্রের সেট ছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষার ১৯ পাতা প্রবেশপত্র, ১২০টি ফাঁকা স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৮টি চেকের পাতা, বিভিন্ন সনদপত্র ও নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক জানান, এই চক্রে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনো পাওয়া যায়নি, তবে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। মূল উৎস শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষাটি সব কড়াকড়ির মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ডিজিটাল অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে রেশমা আক্তার নামের এক পরীক্ষার্থীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
