‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- যেসব অপশক্তি এই মূলমন্ত্র ও জাতীয় নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি প্রকাশ করেছেন, পোশাক খাত ও কলকারখানায় সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের নেপথ্যে সীমান্তের ওপার থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের অর্থ যোগান এবং দেশের ভেতরের কিছু বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক দলের অশুভ আঁতাত রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক সুবিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেন।
চক্রান্তের মূল শিকড় উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে প্রভূত অর্থ সরবরাহ করছে। আর সেই অর্থের ওপর ভর করে এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদেরা, যারা নির্বাচনের আগে মিথ্যা টিকেট বিক্রি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। একপক্ষ সীমান্ত পেরিয়ে টাকা পাঠাচ্ছে, অন্যপক্ষ এখানে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এদের যে কোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেওয়া হবে।

২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি কয়েকটি দলের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকার ওসমানী উদ্যানে নির্মিত জুলাই শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ উদবোধনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গতকাল আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণে স্মারক ভিত্তি স্থাপন করেছি। বিএনপি শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসায় সর্বাত্মক পাশে দাঁড়িয়েছে। ২৪-এর চেতনাকে ধারণ করার দাবিদার সব রাজনৈতিক দলকে সম্মান জানিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি ওই দলগুলো। ৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, ঠিক একইভাবে ২৪-এর বিপ্লবকেও তারা ধোঁকা দিচ্ছে।
দেশের মানুষের বর্তমান মনস্তত্ত্ব ও চাহিদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থায়ী স্থিতিশীলতা চায়। ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ যেভাবে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, আগামী দিনগুলোতেও সে ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী পদ্মা ও উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের সাথে আলোচনা করে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য বাংলাদেশের স্বার্থে যত দূর যেতে হয়, সরকার তত দূরই যাবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন, শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
