চলতি বছরের মধ্যেই তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ এবং নারীদের মধ্যে জর্দা ও পানের আসক্তি কমাতে জরুরি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘উবিনীগ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পাবলিক প্লেসে মানুষের সচেতনতা বাড়লেও নতুন করে যাতে কেউ ধূমপানে আসক্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, প্রিয় মানুষ মারা গেলেও মানুষ ভাত খাওয়া ছেড়ে দিতে পারে, কিন্তু ধূমপান ছাড়তে পারে না। তাই ধূমপান শুরু করার পর মানুষকে আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন করে যেন কেউ ধূমপান শুরু না করে, আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে।
নারীদের তামাক ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নারীদের মধ্যে জর্দা ও পান খাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এমনকি কম আয়ের নারীরাও এতে মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছেন। এ বিষয়ে অবিলম্বে ব্যাপক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে চলতি বছরই সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি উদীয়মান হুমকি হিসেবে ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণেও একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিএনপি সরকার একটি ঐতিহাসিক কৃতিত্ব দাবি করতেই পারে। তরুণদের ধূমপান থেকে দূরে রাখার কৌশল হিসেবে তিনি প্রস্তাব করেন, সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে ধূমপান নিষিদ্ধের শর্ত যুক্ত থাকলে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে।
