তিস্তা নদীর সমন্বিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ নিজের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখে তিস্তা প্রকল্পে সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে সরকার দেশের সার্বিক কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দেবে। এই প্রকল্পে অর্থায়নের ধরন কী হবে বা চীন অর্থায়ন করবে কি না—তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বাজারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতের যে অস্থিরতা চলছে, তার কারণেই মূল সঙ্কটটি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হয়ে এলে সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ইতিমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের জ্বালানিবাহী বিমান দেশে পৌঁছেছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা দেশের বাজারেও কিছুটা প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই সঙ্কট সাময়িক এবং সরকার সরবরাহ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ উদ্দেশ্যে দরিদ্র মানুষের জন্য ভিজিএফ কার্ডের চাল বরাদ্দ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করা হয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হলেও সরকারের খাদ্যসহায়ক কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কেবল সেপ্টেম্বরেই ৯৮৪টি তদারকি অভিযান চালিয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান চালানোই বাজার নিয়ন্ত্রণের একমাত্র সমাধান নয়। মূল লক্ষ্য হলো বাজারের সরবরাহের ঘাটতি মিটিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্তমান পরিবেশ এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে একটি রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশন বা সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা ছিলো। তবে যারা অপরাধ করে পালিয়ে গেছেন, তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু দেশে যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গেই বা কোন ভিত্তিতে কথা বলা হবে? কারণ তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না; উল্টো দলটির শীর্ষ নেত্রী প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই, আর এই আবেদন তো তাকেই প্রথম করতে হবে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারি দলের কেউ জড়িত নেই—এমন দাবি আমরা করছি না। তবে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, সরকার কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না। সম্প্রতি রাজশাহীর অপ্রীতিকর ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।
