পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনের খালে টাকা দিলেই মিলছে মাছ ধরার অলিখিত অনুমতি। এজন্য এক শ্রেণীর জেলেরা টাকাও দেন, তারাই মাছ ধরতে পারেন সংরক্ষিত বনের ওইসব খালে। এর নেপথ্যে স্থানীয় বন বিভাগ ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট। তাদের ইশারাতেই চলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খাল বেচা-কেনার এ বাণিজ্য। ফলে হুমকিতে সেখানকার জীব-বৈচিত্র্য।
ওই রেঞ্জের সংরক্ষিত বনের খালে বন বিভাগ ও প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেটকে টাকা দিয়ে তাদের ছত্রছায়ায় অবাধে মাছ শিকার ও গাছ কাটা নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর একাত্তর টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন প্রচার হয়।
প্রতিবেদনটি প্রচারের পর পটুয়াখালী সহকারী বন সংরক্ষক মো. তারিকুল ইসলামকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এ কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটির ওই চিঠিতে বলা হয়, একাত্তর টেলিভিশনের সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মাছ ধরা এবং গাছ কাটার সাথে জড়িত বন কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হলো।
এদিকে, সংবাদ প্রচার না করার জন্য প্রতিবেদককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে চাওয়া সেই চরমোন্তাজ সদর বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইছাকে চরমোন্তাজ সদর ক্যাম্পের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে (আবুল কালাম মোহাম্মদ ইছা) চরমোন্তাজ সদর ক্যাম্পের দায়িত্ব হস্তান্তর করে গলাচিপা বন আদালতের সহকারী বন মামলা পরিচালকের মূল দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত, আহত ১০
উল্লেখ্য, জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২০ মার্চ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জীববৈচিত্র্য তথা মৎস্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় রাঙ্গাবালীর সোনারচর অভয়ারণ্যসহ বন বিভাগের আওতাধীন সংরক্ষিত খালে মাছ শিকারের জন্য অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
একাত্তর/আরএ
