জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
সচিবালয়ে বুধবার আমদানি নীতি সংশোধন বিষয়ক স্টেক হোল্ডারদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
ই-সিগারেট বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, এটা আলোচনায় এসেছে। আমরা বলেছি এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে আমদানি নীতিতে আমরা সেটাই সংযোজন করবো।
‘আমাদের এখানে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটাই।’
তপন কান্তি ঘোষ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব এসেছে যে, এটার (ই-সিগারেট) আমদানি যেন অনুমোদন না করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটা আইন প্রণয়ন করছে। সেই আইনে যা থাকবে আমাদের আমদানি নীতিতেও তা অন্তর্ভুক্ত করবো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও ইলেকট্রিক সিগারেট (ভেপ) জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধের পথে হাঁটছে বিভিন্ন দেশ।
গ্লোবাল টোব্যাকো কন্ট্রোল-এর হিসেবে, ১০৭টি দেশে বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়েছে ই-সিগারেট।
বিবিসির এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ ধূমপায়ীদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে যে, ধূমপান ছাড়ার জন্য ই-সিগারেট সহায়ক হতে পারে।
এই সিগারেটের ভেতরে নিকোটিন, প্রোপাইলিন গ্লাইকল অথবা ভেজিটেবল গ্লিসারিন এবং সুগন্ধী মিশ্রিত থাকে।
কিন্তু তামাকের ভেতর থাকা অনেক বিষাক্ত রাসায়নিকের তুলনায় (যেমন টার এবং কার্বন মনোক্সাইড) নিকোটিন তুলনামূলক কম ক্ষতি করে।
নিকোটিনের কারণে ক্যান্সার হয় না, কিন্তু সাধারণ সিগারেটে ভেতরে থাকা তামাকের কারণে ক্যান্সার হতে পারে- যার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
এ কারণেই ধূমপান বন্ধ করতে নিকোটিন গ্রহণের মাধ্যম পরিবর্তনের জন্য অনেক বছর ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। যার মধ্যে রয়েছে গাম, স্কিন প্যাচেস বা মুখে স্প্রে করা।
একাত্তর/আরবি
