অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর পথে পথে মানুষের ভোগান্তির কমতি ছিলো না। শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর সব সড়কেই শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। গন্তব্য পৌঁছাতে রীতিমতো যুদ্ধে করতে হয়েছে।
রাজধানীতে বিআরটিসির বাস চললেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিলো খুবই কম। এই সুযোগে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটো রিকশা ও রিকশায় আকাশচুম্বী ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
সকাল সাড়ে সাতটা রাজধানীর খিলক্ষেত। কিছুক্ষণ পরপর আসছে যাত্রী বোঝাই বিআরটিসি ডাবল ডেকার বাস। যাতে পা ফেলার জায়গা ছিলো না।
তারপরও বাস থামতেই বাদুড় ঝুলার মতো করে বাসটিতে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। যারা পারেননি, তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে পরের বাসটির জন্য।
শনিবার নগর পরিবহনের অঘোষিত ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর প্রতিটি সড়কের অবস্থাই ছিলো এ রকম। দুর্ভোগ শুধু অফিসগামীদেরই নয়। শিক্ষার্থী ও রোগীসহ জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষদের ভোগান্তির কমতি ছিলো না।
কোনো গণপরিবহন না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে উচ্চ ভাড়ায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার এবং মোটরসাইকেল নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
মানুষের বিপদের এই সময়টাকেই বাড়তি উপার্জনের সুযোগ করে নেয় ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল, সিএনজি অটো রিক্সা ও রিক্সা চালকরা। আদায় করে চার থেকে পাঁচগুণ বেশি ভাড়া। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটেই রওনা দেন গন্তব্যের পথে।
ধর্মঘটে বন্ধ থাকা কিছু পিকআপ ভ্যানকেও দেয়া গেছে যাত্রী টানতে। অ্যাপ বন্ধ রেখে বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী টেনেছে উবার চালকরাও।
মানুষের এই ভোগান্তি চরমে পৌছায় বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যবেলায়। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে দেখা গেছে মানুষের জটলা। সবাই ফিরতে চান ঘরে, কিন্তু কিভাবে সেটা জানা নেই কারো।
অন্যদিকে, ধর্মঘটে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো দূরপাল্লার বাস। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।
একাত্তর/এআর
