রাজধানীর উত্তরাতে অবস্থিত ‘ননী সুইটস’ নামের মিষ্টান্ন দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ইএফডি মেশিনের পরিবর্তে কাঁচাচালান ইস্যু করে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব খুঁজে পেয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল।
রাজধানীর উত্তরার ১১ নং সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ রোডের 'ননী’ সুইটস' প্রতিষ্ঠানটির ফ্যাক্টরি টঙ্গীর ধউরে অবস্থিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা উত্তরার ‘ননী’র দোকানে গিয়ে মিষ্টি কিনলে মূসক-৬.৩ চাওয়া সত্ত্বেও তাকে কাঁচাচালান দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ইএফডি মেশিন বসানো থাকলেও ইএফডিতে চালান না কেটে কাঁচাচালানে পণ্য বিক্রয় করায় ঐ ক্রেতা ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের পরে সংস্থার উপপরিচালক জনাব মুনাওয়ার মুরসালীন রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল তিনটায় ওই দোকানে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে গোয়েন্দা দল ওই ক্রেতার অভিযোগের সত্যতা পায়। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির উত্তরার শোরুমে ক্রেতার দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটিতে ইএফডি মেশিন থাকলেও কাঁচাচালানে মিষ্টি বিক্রি করার বিষয়টি গোয়েন্দা দল সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান থেকে ৪০টি অবৈধ কাঁচাচালানের বই জব্দ করা হয়, যা প্রতিষ্ঠানটি অধিকাংশ ক্রেতাকে বিক্রয় রশিদ হিসেবে প্রদান করে থাকে। রশিদ যাচাই করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের কোনো নিবন্ধন নম্বর ও ভ্যাটের পরিমাণ এতে উল্লেখ নেই। আইন অনুসারে এগুলো ‘ভ্যাট চালান’ (মূসক-৬.৩) নয়।
আরও পড়ুন: ফিরতে শুরু করেছেন সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকরা
প্রতিষ্ঠানটির টঙ্গীর ধউরে অবস্থিত ফ্যাক্টরিতে গিয়েও একই ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়। সেখানেও মূসক-৬.৩ বাদ দিয়ে পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে মর্মে অনুসন্ধানে দেখা যায়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ঢাকায় পাঁচটি শো-রুম আছে এবং ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধিত।
উল্লেখ্য, আইন অনুসারে যেসব শোরুমে ইএফডি বসানো হয়েছে সেগুলোতে ক্রেতাকে আবশ্যিকভাবে ইএফডিতে বিক্রয় রশিদ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। ইএফডিতে ভ্যাট চালান প্রদান করলে তা এনবিআরের সেন্ট্রাল সার্ভারে রেকর্ড হয়ে যায় এবং তা মাসিক ভ্যাট হিসাবের জন্য নির্ধারিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রেতা কর্তৃক ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ইএফডিতে দেয়া চালান এনবিআরের মাধ্যমে প্রতিমাসের পুরস্কার ঘোষণার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুপন হিসেবে বিবেচিত হয়। ‘ননী’তে ইএফডি বসানো স্বত্ত্বেও তা ব্যবহার না করা ক্রেতাদের সাথে প্রতারনার সামিল এবং ভ্যাট আইন অনুসারে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম অনুসন্ধানের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের কর্পোরেট শাখা এবং ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ রোড শাখায় হিসাব বিবরণী তলব করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শীঘ্রই মামলা দায়েরসহ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
একইসাথে সংশ্লিষ্ট ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটকে এই মিষ্টান্ন দোকানকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যথাযথ ভ্যাট আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যথাযথভাবে ইএফডিতে ভ্যাট চালান ইস্যুর বিষয়ে আরো নজরদারি করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
একাত্তর/টিএ
