বিশৃঙ্খলা অব্যবস্থাপনা আর বহু মানুষের টিকা না পাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শেষ হলো গণটিকা কর্মসূচির প্রথম দিন। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই ছিলো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ফলে বহু মানুষ টিকা পাননি।
তাই মানুষের আগ্রহ ও চাহিদা বিবেচনায় গণটিকা কর্মসূচির মেয়াদ আরও দুদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক।
ঘটনাস্থল ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের শ্যামলী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। টিকা পেতে শনিবার ভোর ছয়টা থেকেই অপেক্ষায় হাজারের ওপর মানুষ।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরো বড় হবার সঙ্গে বাড়ছিলো বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি সামালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
কিছু দুরে মোহাম্মপুরের অস্থায়ী টিকা কেন্দ্রেও ছিলো একই অবস্থা। একই ভাবে উত্তর সিটির বেশিরভাগ কেন্দ্রেই টিকার চেয়ে মানুষের উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা পাননি বহু মানুষ। এই অবস্থায় গণটিকা কর্মসূচির মেয়াদ আরও দুদিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
২৬ ফেব্রুয়ারির পর প্রথম ডোজের টিকা বন্ধ হবার খবরকে গুজব উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সব ডোজের টিকাই এক সাথে চলমান থাকবে।
তিনি আরো জানান, দেশে পর্যাপ্ত টিকা মজুদ আছে। কেউ টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। এই নিয়ে কোন ধরনের সংশয়ে না থেকে নিয়ম মেনে সবাইকে টিকা নেয়ার আহবানও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণেও করোনার গণটিকা কার্যক্রমে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিলো চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা। কেন্দ্র প্রতি নির্ধারিত ছিলো মাত্র পাঁচশ টিকা। কিন্তু ভিড় ছিলো হাজারও মানুষের।
আরও পড়ুন: কোন কারণ নেই তারপরও বেড়েই চলছে চালের দাম
তাই, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকা পায়নি বহু মানুষ। তাদের দাবি, একদিন নয়। বরং এমন কর্মসূচি চলুক আরও কয়েকদিন।
ঘটনাস্থল কামরাঙ্গীরচরের কামরুল ইসলাম কমিউনিটি সেন্টার। শনিবার সকাল ৯টায় করোনার গণটিকা কার্যক্রম শুরুর কথা। কিন্তু ভোর থেকে অপেক্ষায় হাজারো মানুষ।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে টিকা মানুষের ভিড়। শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। মূল গেট পেরুতে রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হয় সবাইকে।
এ সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের পরিচিতরাই কেবল টিকা পাচ্ছেন। বাকিদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
এমনই পরিস্থিতি ছিলো বেশিরভাগ কেন্দ্রে। ঢাকা দক্ষিণে ওয়ার্ড প্রতি টিকা কেন্দ্র ছিলো ৯টি। কোনও কাগজের বাধ্যবাধকতা না থাকায় সব কেন্দ্রেই ছিলো উপচে পড়া ভিড়।
অনেকেরই শঙ্কা ছিলো শনিবারের (২৬ ফেব্রুয়ারি) পর হয়তো করোনার প্রথম ডোজের টিকা আর মিলবে না। তাই মরিয়া ছিলেন সবাই।
কেন্দ্র প্রতি টিকা নির্ধারিত ছিলো ৫০০ ডোজ। অনেক কেন্দ্রে যা দুপুরের আগেই ফুরিয়ে যায়। কিছু কিছু কেন্দ্রে বাড়তি টিকার ব্যবস্থা হলেও অনেক কেন্দ্রেই সেটা হয়নি।
এমন বিশৃঙ্খলার মধ্যেও এদিন দক্ষিণের ৬৭৫টি কেন্দ্রে করোনার প্রথম ডোজ পেলেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। সবাইকে দেয়া হয় সিনোভ্যাকের টিকা।
বিশেষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ফাইজারের টিকা দেয়ার কথা থাকলেও সেই ব্যবস্থা ছিলো না।
একাত্তর/আরএ
