প্রস্তাবিত ‘গণমাধ্যম কর্মী বিল-২০২২’কে বৈষম্যমূলক ও এতে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির সুরক্ষা, সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংসদে উত্থাপিত ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০২২’ এর ওপর বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টিআইবি।
সোমবার (২৮ মার্চ) প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে তোলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। পরে বিলটি পরীক্ষা করার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
খসড়া আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমানান বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের আইনি সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার কথা প্রস্তাবিত বিলে উল্লেখ করা হলেও কার্যত তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
খসড়া আইনটির আরও গভীর বিশ্লেষণ ও সংশোধন অপরিহার্যতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও কর্তব্য বিবেচনায় নিলে গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরি যে বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে, তারও কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
আইনটির খসড়া প্রসঙ্গে টিআইবি মনে করে, আপাতদৃষ্টে শ্রম আইনে যে ন্যূনতম মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে শুধু সেগুলোকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করাকেই যথেষ্ট বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানেও একতরফাভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে।
বিলটির ১২ ধারায় গণমাধ্যম মালিকদের অতিরিক্ত কর্মী ছাঁটাই করার অধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে টিআইবি বলছে, ১৪ ধারায় অসদাচরণের সংজ্ঞা না দিয়েই এই অপরাধে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিপজ্জনক বিধান রাখা হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মী কল্যাণ সমিতি নামে সাংবাদিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার বিষয়টি থাকলেও, এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান এই বিলে অনুপস্থিত, বলেছে টিআইবি।
টিআইবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিলটি ঢেলে সাজাতে এবং এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই সংবাদকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও আহ্বান জানায়।
একাত্তর/জো
