দেড় যুগ আগে একুশে বইমেলার বাইরে বহুমাত্রিক লেখক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যার ঘটনায় চার জঙ্গির ফাঁসির আদেশ দিয়ে আদালতের রায়কে ‘গৎবাঁধা’ বলে মন্তব্য করেছেন মামলার বাদী মঞ্জুর কবির।
তিনি আরও বলেন, “হুমায়ুন আজাদ হামলায় আহত হওয়ার পর দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীকে দায়ী করেছিলেন। তাকেই যখন বাদ দেওয়া হল, তারপর তো আর কিছু থাকে না।”
হুমায়ুন আজাদের ছোটো ভাই মঞ্জুর কবির বুধবার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেন, “ফাঁসির রায় হয়েছে? ওই গৎবাঁধা। যাদের ফাঁসি হল তারা আদৌ ছিল না কিনা কে জানে? যে মূল আসামি তাকেইতো মামলায় রাখা হয়নি। প্রতিক্রিয়া দিয়ে কী হবে, ভাইতো ফিরবে না।
ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল-মামুন বুধবার দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি চার আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন তিনি।
দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা দুই আসামি নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) শুরা সদস্য মিজানুর রহমান মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন এবং আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বাকি দুই আসামি নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু এবং সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ পলাতক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ আক্রান্ত হয়েছিলেন একুশে বইমেলা চলাকালে। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বাংলা একাডেমি থেকে বেরিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ দিয়ে টিএসসির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীর চাপাতির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হন তিনি। কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছর অগাস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। পরে ১২ অগাস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
২০০৪ সালে হুমায়ুন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে মৌলবাদীরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এই বইটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে জামায়াতে ইসলামের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।
২০০৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাঈদী জাতীয় সংসদে হুমায়ুন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ উপন্যাসটিকে ইসলাম বিরোধী আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেন। তিনি বিভিন্ন সমাবেশেও বইটি নিয়ে বিষোদগার করেন।
হুমায়ুন আজাদকে আক্রমণের পরেও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী একাধিকবার ওয়াজ মাহফিল ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে হুমায়ুন আজাদকে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এমন বক্তব্যও রাখেন।
এতকিছুর পরেও তার নামটি মামলা থেকে মুছে দেওয়া কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না হুমায়ুন আজাদের পুত্র অনন্য আজাদ। তিনি বলেন, 'শায়খ আব্দুর রাহমান থেকে শুরু করে আরও যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারাও স্বীকার করেছিলেন যে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বক্তব্য শুনে তাদের হুমায়ুন আজাদকে হত্যা করার পরিকল্পনা রচিত হয়।'
যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে এ মামলার আসামি করা হলেও পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।
একাত্তর/এআর
