দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির সুযোগ বঞ্চিত। আর নিরাপদ পয়োনিস্কাশন সুবিধা পাননা ৭১ শতাংশ মানুষ।
সোমবার (৩০ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘২০২২-২৩ জাতীয় বাজেটে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে বরাদ্দ’ শিরোনামে বাজেটপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রতিবেদন তুলে ধরেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে যেখানে নাগরিকদের সুপেয় পানি নিশ্চিত করে নিরাপদ বাসস্থান, পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থার বলয় গড়ে তোলা জরুরী হয়ে পড়েছে।
কিন্তু ২০২১ সাল পর্যন্ত বেশিরভাগ মানুষ পানি পেলেও ২০২১ সাল পর্যন্ত দেখা যায়, ৩৯ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পায়। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার জন্য বাড়তি কর্মসূচি, নজর লাগবে। মানসিকতায়ও নিরাপদ পানির বিষয়টি আনতে হবে।
প্রতিবেদনে আরো উঠে এসেছে, স্যানিটেশন উপখাতেও অগ্রগতির বিষয়টি উদ্বেগজনক। এমডিজি–সময়ে উন্মুক্ত-স্থানে মলত্যাগ নির্মূলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করে।
জাতীয় অগ্রাধিকার সূচক অনুযায়ী শতভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ স্যানিটেশন সেবার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে ২০২১ সাল পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ৩৯ শতাংশ। তার মধ্যে গ্রামে ৪২ ও শহরে ৩৪ শতাংশ।
হোসেন জিল্লুর বলেন, স্যানিটেশনে বেশ সফলতায় বাংলাদেশ। খোলা জায়গায় মলত্যাগ না করায় বাংলাদেশের যে সফলতা, তা অনেকে এখনো অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু এটা ছিল এমডিজি–যুগের একটা লক্ষ্য। এসডিজি–যুগে বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। সেটা হচ্ছে স্যানিটেশনের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা। এটা আরও দুরবস্থায় আছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি ৩৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিনের অন্যান্য মৌলিক নির্দেশকের অগ্রগতি মাত্র ৫৮ শতাংশ এবং ‘সাবান অথবা পানি ছাড়া’ নির্দেশকের জাতীয় অগ্রগতি মাত্র ৩৬ শতাংশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়।
অগ্রগতির এ মাত্রা বলে দেয়, বাংলাদেশকে পানি, নিরাপদ স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার (হাইজিন) ক্ষেত্রে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো অনেক পথ পারি দিতে হবে।
আরও পড়ুন: চাল নিয়ে কারসাজি হলে ব্যবস্থা নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, এডিপির মোট বরাদ্দের হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের বরাদ্দে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বা ১৪ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব এলাকায় বরাদ্দ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ বছর আগের তুলনায় ৭২ শতাংশ কমেছে।
একাত্তর/আরএ
