পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের পর দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী চাপ এবং পরিবহন দুই-ই বেড়েছে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে।
সেখানে আগত যাত্রীরা বলছেন, আট-দশ ঘন্টার সড়ক পথ এখন নেমে এসেছে তিন থেকে চার ঘন্টায়। তাই সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে।
আর পরিবহন সংশ্লিষ্টাও বলছেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় এখন তারা অনায়াসে প্রতিদিন একটি বাসে দুইবার যাত্রীপরিবহন করতে পারছেন, অথচ আগে একবারের বেশি সম্ভব ছিলো যেতো না।
অন্যদিকে পদ্মা সেতু হয়ে কম সময়ে ঢাকায় আসতে পেরে বাসচালক, কন্ডাক্টর থেকে শুরু করে যাত্রীদের মধ্যে বিপুল আনন্দ দেখা গেছে।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরই বদলে যায় রাজধানীর সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনালের চিত্র। যেখানে চাপ বেড়েছে দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীর।
ঢাকায় আসার রুট পারমিট থাকা বাস তো আসছেই। রুট পারমিট নেই, এমন বাসও আসছে ঢাকায়। ফলে যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় তীব্র যানজট হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যশোর-খুলনা-বরিশাল রুটে যাত্রী কমের কারণে আগে দু’তিন ঘণ্টা পরও সায়েদাবাদ থেকে বাস ছাড়তে পারতেন না চালকরা।
সেখানে এখন যাত্রী চাপে আধা ঘণ্টা পরপরই ছাড়তে হচ্ছে গাড়ি। আবার সময় কমে যাওয়ার কারণে দুটো ট্রিপ দিতে পারছে প্রতিটি গাড়ি। কোন কোন পরিবহন বাড়িয়েছে গাড়ির সংখ্যাও।
তবে, যাত্রীরা ভীষণ ঊচ্ছোসিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন বাস্তবে পার হতে পারবেন বলে। সেই সাথে আট-দশ ঘণ্টার পথ তিন-চার ঘণ্টায় পৌঁছানো যাচ্ছে।
এমনকি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে যেতে কমে গেছে পথের দূরত্ব। ফলে আগের চেয়ে কম লাগছে ভাড়া। সবগুলো রুটেই ভাড়া পুননির্ধারণ করেছে মালিকরা।
তবে টার্মিনালে যাত্রী চাপ ও পরিবহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাস রাখতে গিয়ে ঝামেলায় পড়ছেন চালকরা। তাই রাজধানীর বাইরে একটি টার্মিনালের দাবি জানিয়েছে তারা।
এদিকে, পদ্মা সেতুর পর এবার ১ জুলাই থেকে টোলের আওতায় আসছে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক নামের এই মহাসড়কটি ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। যেখানে বড় বাসের জন্য পদ্মা সেতুর ২, ৪০০ টাকা টোলের সাথে বাড়তি যোগ হবে আরও ৪৯৫ টাকা।
একাত্তর/এআর
