সায়েদাবাদ থেকে পোস্তগোলা হয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ জটে স্থবির পুরো পথ। গোটা সড়কেই পরিবহনের চাপ, পিঁপড়ার গতিতে চলতে হচ্ছে সব যানকে।
অন্যদিকে, পদ্মা সেতু দিয়ে পারাপারের আকাঙ্খায় রাজধানীর সায়েদাবাদ টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষ। পথে পথে ভাড়া নিয়ে ছিলো চরম নৈরাজ্য।
মানুষের বিপদের সুযোগ নিয়ে লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা আর লোকাল বাসগুলো নামে দূর যাত্রায়। তাদের ঠেকানোর কেউ ছিলো না।
ঈদে বাড়ি ফিরতে মানুষ কতোটা মরিয়া হতে পারে সেটা সায়েদাবাদে না গেলে কারো পক্ষে বুঝা সম্ভব নয়। টিকেটের জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে কাউন্টার থেকে কাউন্টারে।
শেষ পর্যন্ত বাসে নিজেদের জায়গা খুঁজে না পেয়ে যে ট্রাক-পিকআপে কোরবানির পশু এসেছে, ফিরতি যাত্রায় সেই বাহনগুলোতে চড়ে বসেছে মানুষ। অথচ ঝুঁকিটা সবার জানা।
বাস্তবতা হলো নিরুপায় হয়েই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা। শুক্রবার ভোর সকাল থেকেই যানজটে স্থবির সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, পোস্তগোলা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত পুরো এলাকা।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণের জেলার বাড়িমুখো যাত্রীরা বহু বছরের ভোগান্তি এড়ানোর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রথমবার সেতুতে ওঠার বাসনা। দুয়ে মিলে সায়েদাবাদ ছিলো মানুষে থৈ থৈ।
যার প্রভাবই পড়েছে সড়কে-মহাসড়কে। যাত্রাবাড়ির মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে টোলপ্লাজা পেরিয়ে পদ্মা সেতুমুখী কোনো গাড়িই সামনে এগুতে পারছিলো না।
চার লেনের সড়ক থেকে দুই লেনের পোস্তগোলা ব্রিজে উঠতেই ঘটে যতো বিপত্তি। এদিকে বাসের জন্য পথে পথে অসংখ্য মানুষের অপেক্ষা।
সায়দাবাদ টার্মিনালে ভাড়া নিয়ে রীতিমতো নৈরাজ্য। চারশ টাকার ভাড়া হাজার টাকা। লেগুনা, সিএনজি অটোরিকশা আর লোকাল বাসগুলো নেমে গেছে দূর যাত্রায়।
সবাই সামিল হয়েছে যাত্রীদের পকেট কাটার উৎসবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, বাসে সিটের জন্য এক হাজার এবং দাঁড়িয়ে যাওয়ার জন্য ৭০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাসমালিকরা বাস বন্ধ রেখে সংকট তৈরি করেছে। থেমে থেমে ঘণ্টাখানেক পর বাস ছাড়লেও বাসচালক ও সহকারী দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়ায় রাজি হতে হচ্ছে।
নজরদারিও নামমাত্র। এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দিব্যি পদ্মা সেতুর পথে রুটপার্মিটহীন বাসগুলো। কিন্তু ঠেকানোর কেউ ছিলো না। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোলপ্লাজায় আগেই গাড়ির দীর্ঘজট।
ছয়টি কাউন্টারেও কুলাচ্ছিল না। টোল দিয়ে সেতুতে উঠতে পারলেই সব কষ্ট শেষ। ঈদযাত্রায় জীবনভর পদ্মা পাড়ি দেয়া মানুষগুলোর কাছে পথের এই কষ্ট যেনো কিছুই নয়।
