শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে বাংলাদেশে এসেছেন মিস ইউনিভার্স-২০১৬ ইরিশ মিতেনা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আমন্ত্রণে সংস্থাটির ফ্রান্সের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বাংলাদেশ সফর করছেন তিনি।
শুক্রবার (৮ জুলাই) বিকেলে তিনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে কিশোরীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেন। পরে কিছুক্ষণ তিনি শিশুদের সঙ্গে খেলায় অংশ নেন।
এরআগে কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মিতেনা।
পরিদর্শনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) নলছাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত ও অ্যাসেম্বলি, ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে আড্ডা ও নাচ-গানের একটি ক্লাস উপভোগ করেন। এরপর তিনি ‘আল্ট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চরম দারিদ্র্য থেকে উন্নীত একদল নারীর কাছে তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন। পরে তিনি একটি মেয়ে শিশু ও তার পরিবার পরিদর্শন করে সেই শিশুর স্পন্সর হিসেব দায়িত্ব নেন।
প্রকল্প পরিদর্শনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে একটি গ্রাম উন্নয়ন দলের সঙ্গে সভা ও নিরাপদ পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করেন মিস ইউনিভার্স ইরিশ মিতেনা। এরপর গ্রামের কমিউনিটি কিচেন বা কমিউনিটিভিত্তিক রান্নাঘরে শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার রান্নার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
বিকেলে লেঙ্গুরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মেয়ে শিশুদের দুইটি দলের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন। ইরিশ মিতেনা তার স্পন্সরের শিশুটিসহ ফুটবল খেলায় অংশ নেন।

সন্ধ্যায় বিরিশির কালচারাল একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উপভোগ করেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
ইরিশ মিতেনা জানান, বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নে ফ্রান্সসহ সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আবেদন জানাতেই তার এ সফর। বাংলাদেশের সংস্কৃতি তাকে মুগ্ধ করেছে।
বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে বন্ধসহ নারীর অগ্রগতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ জানান ২৯ বছর বয়সী এই বিশ্বসুন্দরি।
আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড
২০১৬ সালে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্স প্রতোযগিতায় ৮৬ জন অংশগ্রহণকারীকে পেছনে ফেলে সুন্দরী প্রতোযোগিতার খেতাব জোত এই সুন্দরি শিশুদের কল্যাণে দুই বছর ধরে ওয়ার্ল্ড ভিশন ফ্রান্সের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন।
একাত্তর/এসি
