রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে বেড়েই চলছে সব ধরনের পণ্যের দাম। এবার সেই ধারায় যুক্ত হয়েছে ওষুধ।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে ৫৩টি ওষুধের দাম বেড়ে গেছে। সবচে বেশি বেড়েছে অ্যান্টিবায়োটিক, ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপ বা প্রেসারের ওষুধের দাম।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় ও ডলারের বাজারের অস্থিরতার কারণে ওষুধের দাম বাড়াতে হয়েছে।
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ের এক ওষুধ দোকানি জানান, দু’মাস আগেও নাকের ড্রপ এন্টাজলের দাম ছিলো ১৩৮ টাকা। এখন সেটি ২৪০টাকা।
শিশুদের যে নাপা সিরাপ ছিলো ২০ টাকা। এখন সেটি ৩৮টাকা। এন্টোবায়োটিক ক্যাপসুল জাই ম্যাক্সের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ। ৩০ টাকার প্রতি ক্যাপসুলের দাম হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫।
এভাবে দাম বেড়েছে এমন প্রায় ৫৩ রকমের জরুরি ওষুধের। অতি প্রয়োজনীয় এসব ওষুধের দাম গত দেড় মাসে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ বেড়েছে।
প্যারাসিটামল, সেই সাথে রক্তাচাপ, হৃদরোগ, ব্যাথানাশক ও পেটে গ্যাসের সমস্যার নিয়মিত ওষুধগুলোর দাম ৫০ থেকে ১৩৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ কিছু ওষুধের দাম দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে নাজিয়া মডেল ফার্মেসির কর্মীরা জানান, গেলো এপ্রিল থেকে প্রতি মাসেই বেড়েছে ওষুধের দাম। প্রায় সব কোম্পানিই দাম বাড়িয়েছে।
এদেশে এখনও মানুষের চিকিৎসা বাবদ মোট খরচের বড় অংশই ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়, সেখানে ওষুধ ভেদে বড় ব্যবধানে দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা সেখানে গত জুলাই মাসে বহুল ব্যবহৃত ৫৩টি ওষুধের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে।
দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উৎপাদকরা বলছে, বিশ্ব বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে ডলার বাজারে অস্থিরতা আর জ্বালানির দাম বেড়ে চলা- এই তিন কারণ বেড়েছে ওষুধের দাম।
ওষুধ প্রশাসনও বলছে, ৫৩ ধরনের ওষুধের দাম বাড়াতে উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু সেই আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।
বিষয়টিতে অবৈধ হিসাবে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে ওষুধ প্রশাসন। এ কাণে প্রতিদিন পাঁচটি দল ওষুধের বাজারে নজরদারি চালাচ্ছে।
একাত্তর/এআর
