খনন ও শাসনের মাধ্যমে আদি ব্রহ্মপুত্র নদে শুকনো মৌসুমেও কিভাবে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা বছর পানি প্রবাহ ঠিক রাখাটাই চ্যালেঞ্জ। এর জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে নৌযান উপযোগী মাত্র পাঁচ হাজার ৯২৩ কিলোমিটার। আর শুষ্ক মৌসুমে নৌচলাচলের উপযোগী থাকে ৩ হাজার ৮৬৫ কিলোমিটার।
শুষ্ক মৌসুমে যে নদীগুলো নৌচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পাড়ে তার মধ্য অন্যতম হলো আদি ব্রহ্মপুত্র। নদীটি জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পানি প্রবাহ একেবারেই কমে যায়।
কেন এমনটা হয়, মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে আয়োজিত কর্মশালায় তার ব্যাখ্যা দেন আইডব্লিউএম’র নির্বাহী পরিচালক জাকিরুল হক খান।
তবে শুষ্ক মৌসুমে আদি ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এরই মধ্যে পরীক্ষণমূলকভাবে খনন কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদি ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে খননের পাশাপাশি তাকে শাসন করতে হবে এবং পানি প্রবাহ রাখতে হবে বাম তীরে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীও স্বীকার করলেন, শুষ্ক মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে তার প্রত্যাশা, এ কাজে সফল হবে সরকার।
তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং সারা বছর নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে আদি ব্রহ্মপুত্র নদ খননের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিআইডব্লিউটিএ।
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ব্রহ্মপুত্র নদকে দ্বিতীয় শ্রেণির রুট হিসেবে উন্নত করলে বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকল রুটে ১১৬ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে।
ব্রহ্মপুত্র নদের মুখ খুলে দিলে তুরাগ ও বালু নদের প্রবাহ নিশ্চিত হবে। ঢাকার চারপাশের নদীর দূষণ কমে যাবে। বড় ধরনের সাফল্য আসবে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রকল্প চলমান।
আরও পড়ুন: জমি বিক্রির টাকা চাওয়ায় তুলে নিয়ে নির্যাতন
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সচল রাখতে হলে নদীর প্রবাহ সচল রাখতে হবে। নাব্যতা না থাকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও উত্তরাঞ্চলে বন্যা হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে এক সময় বড় বড় জাহাজ চলতো। খননের অভাবে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননে পদক্ষেপ নিয়েছেন।
একাত্তর/আরএ
