প্রায় তিন মাস ধরে গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীর শনির আখড়া, দনিয়া, মুগদা ও মান্ডাসহ বেশিরভাগ এলাকা। এনিয়ে অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না।
বাসিন্দারা বলছেন, রাতে কিছু সময়ের জন্য গ্যাস থাকলেও দিনের বেশিরভাগ সময় থাকে না। এ অবস্থায় অনেকেই মাটির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আবার, অনেকেই রেস্তোরাঁর খাবারে নির্ভর করছেন। এতে করে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার মধ্যে এসব সমস্যায় সঞ্চয়ও ফুরিয়ে যাচ্ছে।
আজব ঘটনা। চুলা জ্বালালে যেখানে আসার কথা গ্যাস সেখানে আসছে পানি। এমন চিত্র দনিয়ার ছাপড়া মসজিদ এলাকার।
আশপাশের পুরো এলাকাতেই প্রায় একই চিত্র। গেলো তিনমাস ধরে দিনের বেলা গ্যাস থাকেনা। মধ্যরাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস আসে।তখন রান্নার উপায় থাকেনা।
সেই সাথে এক মাস ধরে যুক্ত হয়েছে নতুন দুর্ভোগ, লাইনে গ্যাসের বদলে আসছে পানি। এর কোন জবাব মিলছে না তিতাসের কাছ থেকে।
গ্যাস সংকটের কারণে লাকড়ির চুলায় চলছে রান্নার কাজ। সেখানেও আছে দুর্ঘটনার ভয়। আর তিতাসকে দফায় দফায় জানিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না মানুষ।
শনির আখড়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে বাসায় ফেরেন সকালেই। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সেই মাংস রান্না হয়নি।
গ্যাস সঙ্কট চলছে কাঁঠালবাগান, মোহাম্মাদপুর রামপুরা বনশ্রী আর মিরপুর এলাকাতেও। এসব এলাকাতেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস মেলেনা।
রান্নার কাজ সারতে হয় মধ্যরাতে। আগে শীতের সময় গ্যাসের সমস্যা থাকলেও এবার শীতের আগেই সঙ্কট তীব্র হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নিত্যদিনের কাজও। অনেকেই বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনে প্রাত্যহিক রান্নার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্যাস সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটা জাতীয় সমস্যা, এখানে তাদের কিছু করার নেই।
আরও পড়ুন: এলপি গ্যাস নিয়ে ভোক্তার সভায় দোষারোপ আর নালিশ
একটি সূত্র বলছে, ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় ১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে ১৬০ কোটি ঘনফুট। তাই রাজধানীতে গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
একাত্তর/আরএ
