অন্ধজনে দেহ আলো…। এবার, নন্দিতা বড়ুয়ার মরণোত্তর চক্ষুদানের ফলে চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন দু'জন মানুষ। তবে শুধু চোখই নয় পুরো দেহই দান করে গেছেন নন্দিতা, যা শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নন্দিতার মরদেহ হস্তান্তর করেন তার সন্তানেরা।
সারাহ ইসলামের পর এবার মরণোত্তর চক্ষুদান করে আরও দু’জনের চোখের আলো ফিরিয়ে দিলেন নন্দিতা বড়ুয়া। ৩০ জানুয়ারি বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগেই উনসত্তর বছর বয়সী এই নারী মানব কল্যাণে তাঁর দেহ দান করে যান। তার চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় জান্নাতুর ফেরদৌস ও আবদুল আজিজের চোখে।
৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শীষ রহমান আবদুল আজিজের চোখে ও অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজশ্রী দাস জান্নাতুল ফেরদৌসির চোখে নন্দিতা বড়ুয়ার একটি করে কর্নিয়া সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেন।
বৃহস্পতিবার নন্দিতার মরদেহ বিএসএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেন তার সন্তানরা। নন্দিতা বড়ুয়ার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া ও সেঁজুতি বড়ুয়াও মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছা কথা জানান। সে সঙ্গে মায়ের মত তারাও মানবকল্যাণে কাজ করতে চান।
চিকিৎসকরা জানান, নন্দিতার দেহটি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রমে ও গবেষণায় ব্যবহৃত হবে। বিএসএমএমইউ উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, নন্দিতা বড়ুয়ার এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করি। তার দুই মেয়ে শাপলা বড়ুয়া ও সেঁজুতি বড়ুয়াসহ পরিবারের সবার কাছে এই ত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আরও পড়ুন: জাপানি শিশু লিনা বাবা-মার সঙ্গে ভাগাভাগি করে থাকবে
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রথম ক্যাডাভেরিক অঙ্গদাতা হিসেবে সারা ইসলাম বাংলাদেশের মানবকল্যাণে দেহদানে ইতিহাস হয়ে থাকবেন। তার পথ অনুসরণ করে আজ অনেকেই ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান ও মরণোত্তর দেহদানের আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন।
গত ১৯ জানুয়ারি মরণোত্তর অঙ্গদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সারা ইসলাম। তার দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুই নারীর শরীরে। আর কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় আরও দুজনের চোখে।
সারাহ আর নন্দিতার পথ ধরে আরও বহু মৃত্যু পথযাত্রী মানুষ, অপূর্ণতায় আর অসুস্থতায় ভুগতে থাকা আরেকজনের জীবনের আলো হয়ে উঠবেন তেমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাত্তর/এসজে
