ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় অন্তরাসহ অভিযুক্ত পাঁচ ছাত্রীকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে তিন দিনের মধ্যে তার পছন্দমতো হলে আবাসিকতা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ মার্চ) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

ওই শিক্ষার্থী হলেন- ইবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ছাত্রলীগ কর্মী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মীম, ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোয়াবিয়া। অন্তরা ছাড়া সবাই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুষার কান্তি রায় জানান, নির্যাতনের ঘটনা যে মোবাইলে ভিডিও ধারন করা হয় তা খুঁজে জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডিলিট করতে হবে। তিনদিনের মধ্যে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর পছন্দসই হলে তার আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তার পুরো শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনকে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত কুষ্টিয়ার এসপিকে ওই ছাত্রীর নিরাপত্তা ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আদেশ দিয়েছেন।
পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, র্যাগিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ও গৌরবকে ভুলণ্ঠিত করছে। এটা বন্ধে সার্বক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার পর র্যাগিং বন্ধে হাইকোর্ট যে ছয় নির্দেশনা দেয় তা প্রতিপালনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সচেষ্ট থাকার আহবান জানিয়েছে হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, সকালে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন ও আইনজীবী আজগর হোসেন তুহিন। তখন আদালত আইনজীবীদের লিখিত আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে রিট করা হয়।
জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের গণরুমে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ নেত্রীর নাম সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার সহযোগী তাবাসসুম ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী ছাত্রীও একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার ছাত্রী।
একাত্তর/এসি
