রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের বিপরীত দিকে সিদ্দিক বাজার এলাকায় দুইটি ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতদের আহতদের বেশিরভাগেরই মাথা ও শরীরের ওপরের দিকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেলে গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজারে ক্যাফে কুইন নামে ভবনটিতে বিস্ফোরণের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তৈরি হয় অবর্ণনীয় পরিস্থিতি। একের পর এক আহত মানুষকে আসতে থাকে। যাদের বেশিভাগেরই অবস্থা ছিলো গুরুতর।
রাত ৯টা পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। যাদের কয়েকজনের শরীর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হাসপাতালের আসা আহতের মধ্যে গভীর পোড়া কোন রোগী ছিলো না। প্রায় সবারই হালকা পোড়ার সাথে বিস্ফোরণের কারণে ক্ষত-বিক্ষত হবার চিহ্ন ছিলো।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের (ঢামেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল জানিয়েছেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শতাধিক আহতকে তারা চিকিৎসা দিয়েছেন। আহতদের জরুরি ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢামেক পরিচালক আরো জানান, অপেক্ষাকৃত কম আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের দুই একজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিস্ফোরণ কিভাবে কোথায় হয়েছে তার কিছুই তারা বুঝতে পারেননি। তারা শুধু বিকট শব্দ শুনেছেন।
হাসপাতালে আহতদের দেখতে এসে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তারা এটিকে দুর্ঘটনা বলেই মনে করছেন। তবে পুরো তদন্ত শেষেই বলা যাবে বিস্ফোরণের আসল কারণ। বিভিন্ন সংস্থা তদন্তে নেমেছে।
আরও পড়ুন: মাথায় আঘাত ও রক্তক্ষরণে বেশি মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের ডেকে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল।
গুলিস্তানের ভবনে বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৬ জন। এ ঘটনায় আরও অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ
