শেষ শ্রদ্ধা জানানো হলো একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর শামীম সিকদারকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। শুক্রবার তাকে দাফন করা হবে মোহাম্মদপুর কবরস্থানে।
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য- বাংলাদেশের ইতিহাসকেই যেন তাঁর শিল্পকর্মে ভাস্বর করেছেন ভাস্কর শামীম সিকদার। তাই একাত্তরে পা রাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষক শামীম সিকদারের মরদেহ যখন নিয়ে আসা হয় চারুকলা অনুষদে, তখন শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষেরা বলছিলেন, একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
কর্মমুখর মানুষটি প্রথাবিরোধী ছিলেন। তাঁর সৃষ্টিকর্মেও ছিল তার ছাপ। তবে তাঁকে যথাযথ সম্মান না জানানোর আক্ষপেও ছিল। চারুকলা অনুষদে জয়নুল আবেদীনকে নিয়ে তাঁর গড়া ভাস্কর্য দীর্ঘদিন ঢাকা ছিলো প্লাস্টিকে। তা মুক্ত হলো তাঁর মরদেহ যেদিন অনুষদে এলো।

তাঁর কর্ম সংরক্ষণের মধ্য দিয়েই তাঁকে সম্মান জানানো হবে, এমনটাই বলছিলেন যারা তাঁকে ভালোবাসেন। শ্রদ্ধা জানানো শেষে এরপর জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শামীম সিকদারের জানাজা হয়।
ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বোপার্জিত স্বাধীনতাসহ অনেক ভাস্কর্যের স্রষ্টা শামীম সিকদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর ভাস্কর শামীম সিকদারকে সেই কর্মস্থলে তাঁকে শেষ বিদায় জানালেন সহকর্মী ও অনুরাগীরা।
শামীর সিকদারের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। এর বাইরে তার একটি পরিচয় আছে, যা তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি এমন একটা সময়ে শিল্পকলার চর্চা করতেন, যখন সমাজের অনেকেই এগিয়ে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, একজন নারী ভাস্কর হিসেবে তিনি বাংলাদেশে এবং উপমহাদেশে অন্যতম পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, বলিষ্ঠ ও স্পষ্টভাষী। মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মূল্যবোধে তিনি সমৃদ্ধ ছিলেন।
ঢাবি চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, ভাস্কর্য নিয়ে দেশে যখন প্রবল বিরোধিতা ছিল, তখন শামীম শিকদার ঢাকা আর্ট কলেজে ওই বিষয়ে পড়তে যান। পরে তিনি ওই বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ করে চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগে অধ্যাপনায় যোগ দেন।
ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে আরেক ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান বলেন, শামীম সিকদার বাস্তবধর্মী কাজ বেশি করতেন। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি বিমূর্ত ধারণার কাজও করেছেন। যেটা আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনের ভাস্কর্যটাতে দেখতে পাই।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আফজাল হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে শামীম সিকদারের কফিনে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, চারুকলা অনুষদ, ভাস্কর্য বিভাগ, কারুশিল্প বিভাগ, কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
তার ছোট ভাই নাজমুল হক সিকদার জানান, শামীম সিকদারের ছোট ছেলে লন্ডন থেকে দেশে ফিরলে শুক্রবার মোহাম্মদপুরে দাফন করা হবে এই শিল্পীকে।
একাত্তর/এআর
