ধানমন্ডির সাত মসজিদ সড়কের বিভাজকের গাছ কাটা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাত মসজিদ সড়ক গাছ রক্ষা আন্দোলন কমিটি। গাছ রক্ষায় প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার রাতে সাত মসজিদ সড়কে সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই দাবি জানায়।
এসময় আন্দোলনকারীরা গাছ নিধনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বোচ্ছাচারিতা নিয়ে নানা অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে গাছ কাটা বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেন তারা।

এ ব্যাপারে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ ছাড়া উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটাকে পরিবেশের জন্য ধ্বংসাত্মক ও জনগণের করের টাকা লুটপাটের প্রকল্প।
কয়েক সপ্তাহ যাবৎ ধানমণ্ডি সাত মসজিদ রোডে সড়কদ্বীপের সৌন্দর্যবর্ধনের কথা বলে জিগাতলা থেকে আবাহনী মাঠ হয়ে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত সড়কের মাঝের ব্যাপক সংখ্যক গাছ কেটে ফেলা হয়।
এ নিয়ে পরিবেশবাদী কয়েকটি সংগঠন ও এলাকাবাসীর প্রতিবাদও করেছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ৩ মে ধানমণ্ডি এলাকাবাসী, ধানমণ্ডি সাত মসজিদ সড়ক গাছ রক্ষা আন্দোলন কমিটি, বাপা এবং ব্রতীর পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বরাবার চিঠি দেওয়া হয়।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার নানা নেতিবাচক প্রভাবে বিপর্যস্ত পরিবেশ প্রকৃতি। বেশ কয়েক মাস ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম দিকে স্থান পাচ্ছে রাজধানী ঢাকা। এবছর তাপমাত্রার দিকে থেকেও এরই মধ্যে রেকর্ড দেখেছে দেশ। এই দূষণ এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে গাছপালা। অথচ, এই সহজ বিষয়টিও অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে নগর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বোরকা পড়ে গুলি চালানো যুবক গ্রেপ্তার
তাদের অভিযোগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রত্যক্ষ মদদে ঠিকাদাররা এরই মধ্যে সাত মসজিদ রোডের কয়েকশ গাছ কেটে ফেলেছে। অথচ গাছ কাটার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র তাদের কাছে ছিল না।
একাত্তর/এসি
