কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মরদেহ সবস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় উত্তরার বাসা থেকে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়। এসময় প্রথমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ ছলছল চোখ আর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে এই শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়।
শহীদ মিনারে ফারুকের মরদেহ রাখা হয় দুপুর পৌনে একটা পর্যন্ত। এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে এই শ্রদ্ধাপর্ব শেষ হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে তার প্রাণের কর্মস্থল এফডিসিতে। সেখানে বাদ জোহর অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাবেন চলচ্চিত্রের মানুষেরা। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ফারুক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে গেছেন। রাজনৈতিক বিশ্বাসে, আচরণে, কর্মকাণ্ডে তিনি একচুলও তার আদর্শ থেকে নড়েননি। জাতীয় সংসদে গুলশান আসনে মনোনয়ন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পুরস্কৃত করেছেন। আদর্শের প্রশ্নে তিনি সংকটেও দিশেহারা হননি।
মঙ্গলবার সকাল সাতটা ৫০ মিনিট বেসরকারি এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। এরপর তার মরদেহ রাজধানীর উত্তরার বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে থেকে বেলা ১০টা ১০ মিনিটে ফারুকের মরদেহ ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উদ্দেশে রওনা করে।
এর আগে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা ৪০ মিনিটে ওই ফ্লাইটটি ফারুকের মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
আরও পড়ুন: ফারুক অভিনীত জনপ্রিয় যত সিনেমা
১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ফারুক। এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে ঢাকাই সিনেমার তার অভিষেক হয়। প্রথম সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন কবরী। এরপর ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ এ দুটি সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
পাঁচ দশকের বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে অভিনয় করেন বহু দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে। ‘মিয়াভাই’ চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে ‘মিয়াভাই’ হিসেবে খ্যাতি পান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন এই নন্দিত চিত্রনায়ক। অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
একাত্তর/এসি
