গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর ফাঁকির মামলার আদেশের দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৩১ মে হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করবেন।
সরকারের দাবি অনুযায়ী ৬১ কোটি টাকা দানের ওপর ধার্য ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ড. ইউনূসকে দিতে হবে কী না তা হাইকোর্টের রায়ে নিস্পত্তি হবে সেদিন।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষের দাবি, ঐ দান বিধিসম্মত ছিলো না।
জানা যায়, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ করবর্ষে যে বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে প্রায় ৬১ কোটি টাকা তিনি তার অধীনস্ত তিনটি ট্রাস্টকে দান করেছেন। তাই আইন অনুযায়ী এই দানের ওপর ধার্য কর থেকে তিনি অব্যাহতি পাবেন বলে দাবি তার।
এনবিআর তার এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ২০১৫ সালে দানকর বাবদ ১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা জমা দেয়ার নোটিশ দেয়।
এরপর ড. ইউনূস ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন। সে আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর উচ্চ আদালতে যান। আর শর্ত অনুযায়ী ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা জমা দেন।
সোমবার বিচারপতি খুশিদ আলম সরকার ও বিচারপতি রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ড. ইউনূস যাকে দান বলে দাবি করছেন, তা আইন অনুযায়ী দান নয়। কেননা এই দানের টাকায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা লাভবান হবেন। তাছাড়া শর্ত দিয়ে কোনো দান হয় না।
আর ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দানপত্র আইন অনুযায়ী কর অব্যাহতি ড. ইউনূসের প্রাপ্য।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বললেন, ড. ইউনূস কর ফাঁকি দিতে কী কৌশল অবলম্বন করেছেন সে বিষয়ে আদেশের পর বিস্তারিত জানাবেন।
কর ফাঁকির এই মামলা ছাড়াও ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ১১শ কোটি টাকা করফাঁকির আরও একটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একাত্তর/এআর
