অর্থনীতির সংকটকালে প্রস্তাবিত বাজেটে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার সাথে বাস্তবতার কোনও মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, এ বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষকে করের ভার থেকে স্বস্তি দেয়ারও দিক নির্দেশনা নেই।
শনিবার এডিটরস গিল্ডের গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা জানালেন, এ বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, এডিপি ও বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা কেবল উচ্চাভিলাষী নয়, অবাস্তবও।
বড় অংকের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাতের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলছেন, বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করবে এ বাজেট।
বৃহস্পতিবার সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। যেখানে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে সাড়ে সাত শতাংশ, আর মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশ। খরচের এই খাতায় আয় হিসাবে এনবিআর আর ধারের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতেই ভরসা রেখেছেন অর্থমন্ত্রী ।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের সমস্যাসহ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যেসব সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকার কথা তা বাজেটে নেই।
এসময় ঘুরেফিরেই আসে রাজস্ব আদায়ে করুণ দশার কথা। প্রশ্ন উঠে টিআইএন থাকলেই নূন্যতম দুই হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব নিয়েও।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, কোনও নতুন টিআইএনধারী ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে গিয়ে যে হয়রানির শিকার হবেন না তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ নিয়েও চলে খোলামেলা আলোচনা। এসময় বাজেট ঘাটতি মেটাতে খেলাপি ঋণে জর্জরিত ব্যাংক খাতের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ।
যদিও, এতোসব সঙ্কটের মধ্যে এখনো আশার আলো দেখতে পান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। কর সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো সংসদে আলোচনার কথা জানান তিনি।
একাত্তর/এসজে
