মশা মারতে এবার ব্যাকটেরিয়ার আশ্রয় নিচ্ছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন। কর্মকর্তারা জানান, এবার কীটনাশকের বদলে স্প্রে করা হবে বিটিআই নামের এই ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাসিলাল থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই) নামে ওই ব্যাকটেরিয়ায় মশা ছাড়া অন্য কোন প্রাণীর ক্ষতির শঙ্কা নেই। সিঙ্গাপুর থেকে ব্যাকটেরিয়ার কিনবে উত্তর সিটি।
নগরীর মশা নিধনে কত শত উদ্যোগ। প্রচার-প্রচারণা, চিরুনি অভিযান, লার্ভি সাইডিং আর ফগিং। পাশাপাশি জমা পানিতে নোভালরুন ট্যাবলেট।

ড্রেনে গাপ্পি মাছ কিংবা ড্রোন উড়িয়ে মশার উৎস খোঁজা। মশা মারার কীটনাশকের কার্যকারিতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়েও আছে বিতর্ক।
বর্তমানে মশার লার্ভা মারতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনই ব্যবহার হয় টেমিফস নামের কীটনাশক। এটি মশা মারলেও প্রাণ প্রকৃতির ক্ষতিও করে।
জলের মাছ কিংবা পাখির খাবার এমনকি মানুষের জন্যও নিরাপদ নয় এ কীটনাশক। তাই এবার প্রকৃতি থেকে পাওয়া বিটিআই নামের একটি ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করতে যাচ্ছে উত্তর সিটি।
বিটিআই ব্যাকটেরিয়া মূলত মাটিতে পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়া ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর বলে প্রমাণ হয়েছে অনেক দেশে।

প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে মশায় রূপান্তরিত হওয়ার আগেই লার্ভাকে মেরে ফেলার জন্য বিটিআই ব্যবহার করা যায়। বিটিআই ডিম থেকে বের হওয়া লার্ভাকে মেরে ফেলে।
এতে পরিণত মশার সংখ্যা কমে যায়। ফলে মশার মাধ্যমে জিকা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা পশ্চিম নীলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।
মশা-মাছির প্রাদুর্ভাবের আকারের ওপর নির্ভর করে, হ্যান্ডহেল্ড স্প্রেয়ার, ট্রাক বা বিমান ব্যবহার করে এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে। বিটিআই পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা-ইপিএ নিবন্ধিত কীটনাশক।
নানা রূপে বাজারে পাওয়া যায় এটি। মশার লার্ভা, ব্ল্যাকফ্লাইস এবং ছত্রাক; বিটিআই ব্যাকটেরিয়া খেলে এগুলো তাদের শরীরে এক ধরনের টক্সিন বা বিষক্রিয়া তৈরি করে। ফলে তাদের মৃত্যু হয়।
সিডিসি বলছে, অনুমোদিত মাত্রায় বিটিআই ব্যবহার করা হলে তা মানুষ, মৌমাছি, প্রাণী এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়।
একটি নির্দিষ্ট এলাকায় মশার সংখ্যা কমানোর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিটিআই ব্যবহার করা হলে তা সবচেয়ে কার্যকর। ১৯৬১ সালে বিটিআই ব্যবহারের অনুমোদন দেয় তারা।
বিটিআই’র ব্যবহারকে ইতিবাচক বলছেন কীটতত্ত্ববিদেরাও। তারা বলছেন পরিণত মশা মারার জন্য যে ফগিং করা হয় তা শুধুই লোক দেখানো। আসল কাজটাই হলো মশার লার্ভা ধ্বংস করা।
আরও পড়ুন: সীমান্তে অস্ত্র মজুদ করে সংঘাতের পথে যাচ্ছে বিএনপি: কাদের
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, শুধু মশা মেরে কোন দেশই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কোলকাতাসহ অন্যান্য শহরে সচেতনতা গড়ে তোলাই ছিলো ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে মূল হাতিয়ার।
একাত্তর/আরএ
