বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘটে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষামন্ত্রী।
তবে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। আর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া বাড়ি না ফেরার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার দুই দলের সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার দুইটা পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করেছেন তারা।
১৬তম দিনের মতো চলছে বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের এ আন্দোলন। মাঝে কিছু দিন তাদের উপস্থিতিতে কিছুটা ভাটা পড়লেও বুধবার প্রেসক্লাবে লক্ষ শিক্ষককে জড়ো করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারিরা। মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবে জড়ো হতে দেখা গেছে শিক্ষককদের।
জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে শত শত শিক্ষক জড়ো হওয়ায় বুধবারও প্রেসক্লাবের সামনের এক পাশের রাস্তা বন্ধ ছিল। শিক্ষকেরা নিজেদের রচনা করা কবিতা, গান পরিবেশন করে আন্দোলনকে প্রাণবন্ত করে তোলার চেষ্টা করেন।
তাদের অভিযোগ, একই সিলেবাস পড়ালেও সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের সাথে তাদের অর্থনৈতিক বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গরমের ছুটি বাতিল করে সিলেবাস শেষ করার নির্দেশ দেয়া হলেও আন্দোলনকারি শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেননি।
আন্দোলনরত শিক্ষকেরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দুই-তিন দিন আগে বললেন, আন্দোলন থেকে নাকি বেশির ভাগ শিক্ষক চলে গেছেন। বাকি যাঁরা আছেন, তাঁরাও নাকি কয়েক দিন এখানে থেকে চলে যাবেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী আপনি এসে দেখেন শিক্ষকদের সংখ্যা বেড়েছে নাকি কমেছে?
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি বজলুর রহমান মিয়া বলেন, শিক্ষামন্ত্রী জানালেন নির্বাচনের আগে জাতীয়করণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা বলব, নির্বাচনের আগে জাতীয়করণ করা সম্ভব। স্কুলের ফান্ড ও শিক্ষার্থীদের বেতন সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খুব সহজেই জাতীয়করণ করা সম্ভব।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আবারও শিক্ষকদের ফেরার আহবান জানিয়েছেন। নির্বাচনের আগে এই আন্দোলনের ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মনে করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের জিম্মি করে অন্য কোনো কিছুতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অপচেষ্টা বন্ধ করা উচিত। এখানে শিক্ষক নেতারা আছেন, তাদের উচিত শিক্ষকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ি ফিরিয়ে নেয়া।
শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দীপু মনি বলেন, বিরোধী দল যেভাবে এগোচ্ছে এবং যেখানেই তারা সমাবেশ করছে সেখানেই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এখানে যখন হবে... সেখানে যদি আমার শিক্ষকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় সে দায়িত্ব কারা নেবেন? আমি বলছি অবশ্যই তারা যেন আজকের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যান।
মন্ত্রী আরো বলেন, ২৭ তারিখ এখানে একটা সমস্যা হতে পারে বলে অনেকে শঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় শিক্ষকদের এখানে এনে যারা বসিয়ে রেখেছেন তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তারা আমাদের শিক্ষকদের জিম্মি করে অন্য কিছুতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ অপচেষ্টা বন্ধ করা উচিত।
ক্লাশে ফিরতে শিক্ষামন্ত্রীর আহবান প্রত্যাখান করে শিক্ষক নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া তারা বাড়ি ফিরে যাবেন না। বৃহস্পতিবার সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তার স্বার্থে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। এ সময়ে তাদের কেন্দ্রীয় ৬০ নেতা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করবেন।
একাত্তর/এআর
