বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে আট তলা বাড়ি দখল করে নিয়েছে ছোট ভাই। রাজধানীর মুগদায় এ ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি দখলের পর এখন তিনি দাবি করছেন, এরা তার ভাইয়ের স্ত্রী বা সন্তান নন। ন্যায় বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা।
রাজধানীর মুগদা এলাকায় আট তলা একটি বাড়ির মালিক ছিলেন সাবেক অগ্রণী ব্যাংকের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন বিল্লাল। ২০২১ সালের ১১ আগস্ট করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপতালে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর এক বছর আগেই জমি ও মুগদার বাড়িটি তিনি দুই মেয়ে ও স্ত্রীর নামে দান করে যান। আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও দুই মেয়ে জানান, আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর চারদিনের মাথায় ছোট ভাই মনির প্রথমে বাড়ির তিনটি ফ্ল্যাট নিজের দখলে নেন।
গত এক বছরে বেশ কয়েক বার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও দুই মেয়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা করা হলে, মনির ওরফে এতিম মনির তার স্ত্রী ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু জামিনে বের হয়ে এসেই এবার পুরো বাড়িটি দখলে নেন মনির।
আনোয়ার হোসেন ১৯৮৬ সালের ১৭ই মে নিজের খালাতো বোন ইশরাত চৌধুরীকে বিয়ে করেন। তাদের বড় মেয়ে স্বর্নালী চৌধুরী মিমের বয়স ২৯ বছর। তার বিয়েও হয়েছে। আর ছোট মেয়ে রুপালী চৌধুরি ঐশির বয়স ১৬ বছর।
বাড়ি দখলের জন্য আনোয়ার হোসেনের ভাই মনির এখন বলছেন, তার ভাই কোন দিন বিয়েই করেননি। দুই মেয়েও তার ভাতিজি নন। যদিও মিমের বিয়েতেও তার উপস্থিতি দেখা গেছে। দুই মেয়ের জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয় পত্রেও বাবার নাম আনোয়ার হোসেন।
স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টেও স্বামীর নাম আনোয়ার হোসেন। বাড়ি দখলের জন্য এখন সব কিছুকেই ভুয়া বলে দাবি করছেন মনির। ভাইয়ের স্ত্রী ও তার দুই মেয়েকে বাড়ি থেকে দূরে রাখতে; মৃত্যুর দুই বছর পর স্ত্রী ও দুই মেয়ে, মেয়ে জামাই ও তাদের পক্ষে থাকা ভাড়াটিয়াদের নামে আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে মামলা করেন মনির।
কিন্তু রাজধানীর বেসরকারি স্কায়ার হাসপাতালের মৃত্যু সনদ বলছে তার মৃত্যুর কারণ আগস্টের ১ তারিখে হার্ট অ্যাটাক এবং ১১ তারিখে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। স্কায়ার হাসপাতালের এই মৃত্যু সনদকেও ভুয়া বলছেন মনির।
এই বিবাদের কারণে বিপাকে পড়ছেন ভাড়াটিয়ারাও। ৬ বছর ধরে বাড়িতে থাকা এক ভাড়াটিয়া আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও মেয়েদের পক্ষ নেয়ায় তাকেও হত্যা মামলার আসামি করেছে মনির। ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, মনির তাদেরকেও নানাভাবে হয়রানি করছে।
আরও পড়ুন: সব দলেই রয়েছে একাধিক প্রার্থী, আছে কোন্দলও
মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ বলেছেন, বাড়ি নিয়ে হামলার ঘটনায় মনিরসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা জামিনে বের হয়েছেন। দুই পক্ষেরই আদালতে মামলা চলার কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
মনিরুজ্জামান মনির ওরফে এতিম মনির ঢাকার লালবাগ এলাকাতে নানা ধরণের অপরাধমুলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা আছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির একজন কমিশনারের মদতেই মনির এসব কর্মকাণ্ড করছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটির। নিরন্তর মিথ্যা মামলা ও দখলবাজির হাত থেকে মুক্তি পেতে পরিবারটি প্রশাসনের সাহায্য চান।
একাত্তর/আরবিএস
