বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও দেশের বামপন্থী আন্দোলনের অন্যতম নেতা কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী আর নেই। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর মরদেহ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে এবং তার শেষ ইচ্ছা অনুসারে ৮ জুলাই বেলা ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনাটমি বিভাগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজে ব্যবহারের জন্য মরদেহ হস্তান্তর করা হবে
জানা যায়, ফুসফুসে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ জুন থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ২৮ জুন কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীকে নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে নেয়া হয়েছিল। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিয়ে উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন দেয়ার পরও তার শরীরের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ক্রমেই কমে আসছিল তাই তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।
সিপিবি সভাপতি মুজাাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে দেশের বাম আন্দোলনে কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর অবদান কৃতজ্ঞচিত্ত স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে তার স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুবিনুল হায়দার একসময় ভারতের কমিউনিস্ট দল সোশালিস্ট ইউনিটি সেন্টারে (এসইউসিআই) যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি দেশে ফেরেন।
স্বাধীনতার পর গঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক বিতর্ক শুরু হলে ১৯৮০ সালে আ ফ ম মাহবুবুল হক ও খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি অংশ বেরিয়ে বাসদ গঠন করে। জাসদ ভেঙে বাসদ হওয়ার পেছনে মুবিনুল হায়দারের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
২০১৩ সালে খালেকুজ্জামানের বাসদ থেকে বেরিয়ে বাসদ (মার্কবাদী) গঠন করেন মুবিনুল হায়দার চৌধুরী ও শুভ্রাংশু চক্রবর্তী।
পরে শুভ্রাংশু চক্রবর্তীও বাসদ (মার্কসবাদী) থেকে বেরিয়ে আলাদা দল গঠন করেন।
একাত্তর/এআর
