মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নতুন কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাকিয়া সুলতানা। বুধবার (১০ জুন) এ নিয়োগের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। নিয়োগটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
মাস্টারকার্ডে ১৩ বছরের গৌরবময় কর্মজীবন শেষে চলতি বছরের শেষ দিকে অবসরে যাচ্ছেন বর্তমান কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন জাকিয়া সুলতানা।
বাংলাদেশের পেমেন্টস ইকোসিস্টেম যখন দ্রুত ডিজিটাল গ্রহণ থেকে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ফিনটেক প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে আরও বেশি আন্তঃসংযোগ ও সমন্বয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন অংশীদার ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সংযোগ যতই সম্প্রসারিত হচ্ছে, ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও জোরদার করছে মাস্টারকার্ড।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দেশের ডিজিটাল পেমেন্টস ইকোসিস্টেমের ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। তার সেই অবদানের ভিত্তিতেই মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম ও অংশীদারিত্বের পরবর্তী ধাপকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন জাকিয়া সুলতানা।
২০১৫ সাল থেকে মাস্টারকার্ডের সঙ্গে কাজ করে আসছেন জাকিয়া সুলতানা। সর্বশেষ তিনি মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সহযোগিতায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশে মাস্টারকার্ডের কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।
নতুন দায়িত্বে জাকিয়া সুলতানা বাংলাদেশে মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবেন। ডিজিটাল পেমেন্টসের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা, গ্রাহক ও ইকোসিস্টেম অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংযুক্ত পেমেন্টস পরিবেশ গড়ে তোলা হবে তার অগ্রাধিকার।
তিনি বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সান্দুন হাপুগোদাকে রিপোর্ট করবেন।
মাস্টারকার্ডের সাউথ এশিয়া ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট গৌতম আগারওয়াল বলেন, দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর এবং উদ্ভাবনী পেমেন্ট সমাধানের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বাংলাদেশ মাস্টারকার্ডের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চ সম্ভাবনাময় একটি বাজার। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে মাস্টারকার্ডের শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, জাকিয়া সুলতানার নিয়োগ উচ্চ সম্ভাবনাময় বাজারগুলোতে স্থানীয় নেতৃত্বকে আরও ক্ষমতায়নের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং শক্তিশালী ইকোসিস্টেমভিত্তিক সম্পর্ক আমাদের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং দেশজুড়ে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে সহায়ক হবে।
জাকিয়া সুলতানা বলেন, বাংলাদেশ যখন দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, এমন একটি সময়ে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমাদের গ্রাহক, অংশীদার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করে আমরা নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী পেমেন্ট সমাধান প্রদান অব্যাহত রাখব, যা দেশের ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা এবং বৃহৎ পরিসরের রূপান্তরমূলক কর্মসূচিতে জাকিয়া সুলতানার ২৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করা, দ্রুত বর্ধনশীল কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা ও পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন খাতে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বিকাশমান পেমেন্টস ইকোসিস্টেমে আরও গভীর সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি কর্মজীবন শুরু করেন গ্রামীণফোনে প্রকল্প ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা বিভাগে। পরবর্তীতে প্রায় এক দশক এয়ারটেলে অপারেশনাল এক্সেলেন্স (পিএমও ও কিউএ) বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি বাংলালিংকের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এবং এয়ারটেল ও বাংলালিংক উভয় প্রতিষ্ঠানেই নেতৃত্ব ও বোর্ড-পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি এইচএসবিসিসহ শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
