উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে বল গড়ানোর আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা! তবে আগামী ১৭ জুন ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মহারণ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড। মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বৃহস্পতিবার কোস্টারিকার মুখোমুখি হচ্ছে ‘থ্রি লায়ন্স’রা।
আর এই শেষ অগ্নিপরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে প্রতিপক্ষ শিবিরগুলোকে এক চরম ও জম্পেশ হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ইংলিশ অধিনায়ক ও গোলমেশিন হ্যারি কেইন। জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ক্যারিয়ারের এটাই সেরা ফর্ম এবং ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ট্রফির খরা কাটানোর এর চেয়ে সুবর্ণ সুযোগ আর আসবে না!
বাস্তবিক অর্থেই, হ্যারি কেইন বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খুনে ফর্মে রয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে অবিশ্বাস্য ‘৬১’টি গোল করেছেন তিনি (যার মধ্যে ক্লাব বিশ্বকাপ অন্তর্ভুক্ত নয়)। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের আর কোনো স্ট্রাইকার কেইনের এই দানবীয় ফর্মের ধুলোও ছুঁতে পারেননি। ২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে ইংল্যান্ডকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গেলেও, এবার কেইনের চোখ শুধুই আসল সোনার ট্রফিটার দিকে।

নিজের অদম্য ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে কেইন বলেন, অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার তৃতীয় বড় আসর। আমি বর্তমানে যে শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় আছি এবং ক্লাব ফুটবলে যেমন একটা অবিশ্বাস্য মৌসুম কাটিয়ে এসেছি, তাতে এটাই সম্ভবত আমার পুরো ক্যারিয়ারের সেরা সুযোগ বিশ্বকাপটা উঁচিয়ে ধরার।
ইংলিশ ফুটবলের দীর্ঘ আক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, গত ৬০ বছর ধরে ইংল্যান্ডের জার্সিতে আমরা কোনো বড় ট্রফি জিতিনি। আমরা বারবার সাফল্যের খুব কাছাকাছি গিয়েছি, দরজায় কড়া নেড়েছি। কিন্তু এবার সেই দরজা ভেঙে লাইন পার করার সময় এসেছে। ফুটবলে কখন কী হয় কেউ জানে না, এটাই হয়তো আমাদের শেষ সুযোগ হতে পারে। আমি আরও অনেক দিন খেলতে চাই, নিজেকে এখন সেরা ছন্দে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইনজুরির কথা তো বলা যায় না, তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।
ইংল্যান্ডের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ কোস্টারিকার বিরুদ্ধে অতীতের রেকর্ড অবশ্য বেশ আকর্ষণীয়। দুই দলের আগে মাত্র দুবার মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের জুনে এক প্রীতি ম্যাচে মার্কাস র্যাশফোর্ড এবং ড্যানি ওয়েলবেকের গোলে কোস্টারিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংলিশরা।

পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার দলগুলোর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড এক প্রকার অপরাজেয়। গত ১৯৯৩ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-০ গোলে হারার পর থেকে আজ পর্যন্ত কনকাকাফ অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে টানা ১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে থ্রি লায়ন্সরা (১২টি জয় ও ৪টি ড্র)।
এই দীর্ঘ সময়ে তারা হজম করেছে মাত্র চার গোল! এই চাঙ্গা পরিসংখ্যান আর হ্যারি কেনের ৬১ গোলের অতিমানবীয় ফর্মের ওপর ভর করে ইংল্যান্ড এবার বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় তুলতে পারে কি না, সেটাই এখন কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের দেখার বিষয়!
