শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নামে অগ্নি সন্ত্রাস শুরু করে বিএনপি আবারও তাদের পুরনো চরিত্রে ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
তারা বলেছেন, ২০১৪ সালের মতো আবারও পেট্রল বোমা মেরে অগ্নি সন্ত্রাস করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে এবার তাদের হাত ভেঙে দেয়া হবে।
রোববার বিএনপি-জামায়াতের অগ্নি সন্ত্রাসের প্রতিবাদে দিনব্যাপী রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও কৃষকলীগ।

সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা দাবি করেন, শনিবার বাসে আগুন দিয়ে নিজেদের আসল চরিত্র দেখিয়েছে বিএনপি।
এ সময় কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ বলেন, বাংলার কৃষক সমাজ উন্নয়নের পক্ষে। বাংলাদেশের কৃষক সমাজ এ দেশের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য চায় না। বাংলার কৃষক সমাজ চায়, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কৃষক নেত্রী শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে। বাংলাদেশ কৃষক লীগ সারা বাংলাদেশের কৃষকদের সাথে নিয়ে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস নৈরাজ্যের জন্য রাজপথে আজ থেকে নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে।

এদিকে দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ।
সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, যতোই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হোক, বিএনপিকে মাঠ থেকে তাড়ানো পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো। আজ বিদেশ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ছুটির ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশনা দিয়েছে, সে জন্য তারা আজ উঠেপড়ে লেগেছে। সন্ত্রাসী কায়দায় আন্দোলন করলে পুরস্কৃত করা হবে, সে জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছে।
এসময় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে অরাজকতা সৃষ্টির নির্দেশনা এসেছে বিদেশ থেকে। আর বিএনপি সেটাই বাস্তবায়ন করছে। দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়া ও সন্ত্রাসী তারেক জিয়ার জন্য রাজপথে ছাত্রসমাজের যতো বিন্দু ঘাম ঝরছে, তার জবাব আগামী নির্বাচনে দেওয়া হবে।

একই সময়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। সেখানে নেতারা হুশিয়ারি দেন, আবার অগ্নি সন্ত্রাস করতে আসলে বাংলাদেশের শত্রুদের হাত ভেঙে দেয়া হবে বলে।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সব সময় হত্যা ও খুনের রাজনীতি করে এসেছে। জামায়াতকে বিএনপি রাজনীতিতে এনেছে, মন্ত্রী বানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি দলই এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের বাধা। তারা হলো বিএনপি-জামায়াত। তারা এখন ভিসানীতির আওতায় পড়ার ভয়ে আছে। নিজে যখন মরব, তোরে নিয়াই মরব। এই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। আপনারা সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবেন। তাই বলতে চাই, আগামী নির্বাচনেও আপনারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবেন।

আরও পড়ুন: সোমবার আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ স্থগিত
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমরা শেখ হাসিনার কর্মী। যে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে, দেশের মানুষ শান্তিতে আছে। এই শান্তি যারা নষ্ট করতে চেয়েছে যারা, তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। আগামীকাল বিএনপি বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছ। কিসের বিক্ষোভ? হামলা করলেন আপনারা, সমাবেশ করলেন আপনারা। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। তাই, আগামীকালও আমরা যুবলীগ মাঠে থাকবো।
একাত্তর/এসি
