বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে এবার বিএনপির আন্দোলন দমানো যাবে না।
বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সম্ভব নয় গত দুটি নির্বাচনে তা প্রমাণিত হয়েছে। এবার বিদেশিরা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলো। এরই মধ্যে ইইউ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। এই ঘোষণায় প্রমাণ হয়ে গেলো আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
আওয়ামী লীগের নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা একটি তামাশা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন থেকেই নির্বাচনে কারচুপির সকল চক্রান্ত শুরু করেছে আওয়ামীলীগ।
তিনি বলেন, সরকার তাদের কর্মকাণ্ডে পরাশক্তিগুলোর যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিণত করছে বাংলাদেশকে। সন্ত্রাস ও অগ্নিসন্ত্রাস সরকারই করছে, এটা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কাছে এখনও আহ্বান, দেশ রক্ষায় মানুষের অধিকার রক্ষায় ক্ষমতা ছাড়ুন। এখনও সংঘাত শুরু হয়নি, এটা বাড়তে থাকবে। দাবি মেনে না নিলে জনগন রুখে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধীদল দমনের মাত্রা বেড়েছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। শুধু গণতন্ত্র নয়, এখন প্রশ্ন রাষ্ট্রের অস্তিত্বের। সরকার সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। কথায় কথায় আদালতকে ব্যবহার করে জামিন বাতিল করা হচ্ছে। উচ্চ আদালতের রায় নিম্ন আদালত মানছে না।
বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে এগুচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সরকার ঠিক করবে সামনের দিনে আন্দোলনের রূপরেখা কি হবে। বাংলাদেশের মানুষ চায় অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। দেশের স্বার্থে বিকিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ বিদেশীদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। একে সফল হতে দেবে না জনগণ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপির কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন সংযোজিত হয়েছে। ২৪শে সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে সারাদেশে জেলা ও মহানগরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ৩রা অক্টোবর ফরিদপুরে হবে রোডমার্চ অথবা সমাবেশ। ৪ঠা অক্টোবর পেশাজীবী সমাবেশ। কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের রোডমার্চ করা হবে ৩রা অক্টোবরের পরিবর্তে ৫ই অক্টোবর।
বিএনপির ভৈরব-সিলেট রোডমার্চ চলছে