উন্নয়ন বঞ্চিত চরাঞ্চল ইসলামপুরের ভাগ্য বদল করে দিয়েছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের দুই সেতু। কৃষকরা জানান, তারা এখন পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। তবে ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরেও ভাঙন পুরোপুরি রোধ করা যায়নি। গড়ে উঠেনি শিল্পকারখানা।
আলোচিত নির্বাচনগুলোর মধ্যে শুধু ২০০১ সালে আসনটি হারায় আওয়ামী লীগ। বর্তমান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এই আসনের সংসদ সদস্য। এবার তিনি ছাড়াও তাঁর দল থেকে আরো তিনজন মনোনয়ন চাইবেন। নেই নেই করেও ভোটের মাঠে আছে বিএনপি। কাজ করছে জাতীয় পার্টিও ।
গোয়ালের চর ইউনিয়নের সবুকুড়া গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী। তিন বিঘা জমিতে উন্নতজাতের বেগুন চাষ করেছেন এবার । দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে বেগুনের চাষ করলেও কখনো ন্যায্য মূল্য পাননি। চার বছর আগে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মিত হয় শহীদ খালেদ মোশারফ সেতু ও শহীদ শেখ জামাল সেতু।
কৃষকরা জানান, এই সেতু দুটি বদলে দিয়েছে লাখো মানুষ ভাগ্য। এখন কৃষককের উৎপাদিত ফসল ক্ষেত থেকেই বিক্রি হয়ে যায়। এতে যেমন ন্যায্য মূল্য পান কৃষক, পাশাপাশি চরাঞ্চলের বহু কর্মহীন মানুষ কাজ পান। এই স্বস্তির পাশাপাশি অভিযোগও আছে।
জামালপুর-২ ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। যমুনা পাড়ের চারটি ইউনিয়নের মানুষের এখনো প্রধান সমস্যা বন্যা আর নদী ভাঙন। যমুনা বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প নদী ভাঙন কিছুটা রোধ হলেও মানুষ পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি। শিল্প-কারখানা গড়ে না উঠায় বেকারত্ব কমেনি। শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের জন্যে কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।
আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে পরিচিত এই আসন ২০০১ সালে বিএনপির দখলে গেলেও টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল করতে চান এখানকার আওয়ামী লীগ নেতারা।
ফরিদুল হক খানের পাশাপাশি প্রথমবার মনোনয়নপ্রত্যাশী তরুণ শিল্পপতি এস এম শাহীনুজ্জামান শাহীনের এলাকায় আগমনে নতুন করে বিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী টানা তিনবারের পৌর মেয়র আব্দুল কাদের শেখের প্রতিও অনেকের আস্থা আছে।
উপজেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ে একাধিক পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগে। দ্বন্দ্বে বিভক্ত হয়ে এমপি ফরিদুল হক খানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ কর্মীরা বলছেন, সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগে যদি দলীয় কোন্দল নিরসন না হয়, তবে সুযোগ নেবে জাতীয় পার্টি না হয় বিএনপি।
ফরিদুল হক খান এমপি বলেন, এই আসনের সাধারণ জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে খুবই সুসংগঠিত। আমি এবারও দলীয় মনোনয়ন চাইব। আগামী নির্বাচনে দল যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই মনোনয়ন দেবে।
জামালপুর-শেরপুর সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি হোসনে আরা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। নিশ্চয় দল কাজের মূল্যায়ন করবে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব।আগ্রহ জানিয়েছেন, সাবেক এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবী মোশাররফও।
ইসলামপুরে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ জাতীয় পার্টির। আগামী নির্বাচনে এই আসনটি নিজেদের দখলে নিতে চান তারা। শিল্পপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে ইতোমধ্যে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যখন যেভাবেই হোক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
সরকার পতনের একদফা আন্দোলন এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বিএনপি। নেতারা জানিয়েছেন সরকার পতন না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। এই আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জাসদ, কমিনিউস্ট পার্টি। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জামালপুর-২-ইসলামপুর আসন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, এ আসনে বিএনপির মনোনয়নে প্রথমবার মতো আমিই দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। সুতরাং আমার ওপর দলের যেমন আস্থা রয়েছে, তেমনি আমিও দলের ওপর আস্থা রেখেই এলাকাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।
একাত্তর/এসি
জামালপুর-১: বড় দলেই হেভিওয়েট প্রার্থীর ছড়াছড়ি