কুষ্টিয়া-৪: আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, দ্বিধায় বিএনপি

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৫৪ পিএম

আওয়ামী লীগের আসন কুষ্টিয়া-৪। কুমারখালী ও খোকসা নিয়ে এই আসনে আওয়ামী লীগ হারে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে। ভোট বেশি হলেও এবার আওয়ামী লীগের কোন্দল শুরু হয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের পরিবার থেকে। পরিবারের বাইরেও তাঁকে পাঁচজন শক্ত দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে।  নৌকার মাঝি হতে এই আসনে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন অন্তত অর্ধডজন নেতা।

এখানে, বিএনপিতেও মনোনয়ন নিয়ে দুই উপজেলার প্রার্থীদের দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। তবে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপির কোন নেতা-কর্মী এখনও নেই মাঠে। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপি ছাড়াও জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং জাসদের প্রভাব ফেলার মত ভোট রয়েছে এই আসনে।

তাঁতশিল্প এবং ছোট ও মাঝারি শিল্পে সমৃদ্ধ জনপদ কুমারখালী ও পাশ্ববর্তী খোকসা উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন। ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক কারণে এই আসনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কুষ্টিয়া-৪: আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, দ্বিধায় বিএনপি, ছবি: একাত্তর

জনশ্রুতি রয়েছে, নবাব মুর্শিদকুলি খান রাজস্ব সংগ্রহের জন্য কমরকুলি খানকে এই অঞ্চলের কালেক্টর নিযুক্ত করেন। তার নামানুসারেই এই অঞ্চলের নাম হয় ‘কমরখালী’, যার অপভ্রষ্ট-রূপ বর্তমান ‘কুমারখালী’। আবার কুমার নদীর খাল থেকে ‘কুমারখালী’ নামের উৎপত্তি বলেও কেউ কেউ মনে করেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির কাজে তার জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন এ উপজেলার শিলাইদহে এবং এখানেই তিনি গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থে তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। রবি ঠাকুর ছাড়াও অনেক মনীষির জন্মভূমি এই কুমারখালী।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাধক পুরুষ হরিনাথ মজুমদার ওরফে ‘কাঙাল হরিনাথ, অমর কথা সাহিত্যিক ‘বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন, স্বদেশী আন্দোলনের নেতা বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্মও এই জনপদে। প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধক ও বাঙলার বাউলের শিরোমণি ফকির লালন শাহের সমাধি রয়েছে এখানে।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের বর্তমান এমপি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাবেক এমপি শহীদ গোলাম কিবরিয়ার নাতি ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া-৪ আসনে এমপি নির্বাচিত হন গোলাম কিবরিয়া।

গোলাম কিবরিয়া ১৯৭৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর কুমারখালীর বড় মসজিদ ঈদগা মাঠে ঈদের নামাজরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হোসেন তরুণ, ১৯৯১ সালে আবদুল আওয়াল মিয়া, ২০০৮ সালে গোলাম কিবরিয়া পরিবারের সুলতানা তরুণ, ২০১৪ সালে আবদুর রউফ এবং সবশেষ ২০১৮ সালে নির্বাচনে ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি নির্বাচিত হন।

এছাড়া আসনটিতে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির আবদুল হক ও ১৯৯৬ সালের (জুন) নির্বাচনে বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে এ আসনে এমপি হন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী নূর আলম জিকু।

কুষ্টিয়া-৪: আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, দ্বিধায় বিএনপি, ছবি: একাত্তর

মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে আওয়ামীলীগের দখলে ছিল আসনটি।  ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এখানে বিএনপি জয়ী হলেও ২০০৮ এ আবারও আসনটির দখল নেয় আওয়ামী লীগ।  গত ১৫ বছরে এই আসনে গড়াই নদীর উপর শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু,  নতুন আধুনিক ভবন নির্মাণসহ বেশ কিছু উন্নয়ন হয়েছে।

কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিরোধীদলের যতটা না অভিযোগ, এর চেয়ে অনেক বেশি অভিযোগ তার দলের একাংশের নেতা কর্মীর। মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল শুরু হয়েছে বর্তমান এমপির পরিবার থেকেই। আগ্রহী আরও প্রার্থী রয়েছে দলেও। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করতে চান বর্তমান এমপিসহ কমপক্ষে ছয়জন আওয়ামী লীগ নেতা। এদের মধ্যে দুইজন সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন।

দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন- সাবেক এমপি আব্দুর রউফ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর এবং কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মান্নান খান। এদের মধ্যে খোকসা এলাকার একক প্রার্থী সদর উদ্দিন খান। আর সবাই কুমারখালী এলাকার প্রার্থী।

এমপি জর্জ বলেন, তার সময় কুমারখালী-খোকসা এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-মাদ্রাসা নির্মাণসহ মানুষের যোগাযোগ সংক্রান্ত ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। দুই উপজেলায় কমপক্ষে ২০টি স্কুল ভবন ও ১৫টি মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলাকায় সার্বিক উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।

সদর উদ্দিন খান বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকে ভালো মনে করেন তাকেই মনোনয়ন দেবেন। তবে এই আসনে নির্বাচনে বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীকে মোকাবিলা করতে সদর উদ্দিন খানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বিপুল ভোটের ব্যবধানে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছি।

অপরদিকে এই আসনে বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিকের নাম শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি চাইবে এই আসনটি পুনরুদ্ধার।

সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আমার কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাওয়াার প্রশ্নই আসে না। আর, প্রামানিক বলেন, তাকে মনোনয়ন দিলে এই আসনটি পুনঃ উদ্ধার হবে।

কুমারখালী-খোকসা নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১ হাজার ১১টি। এর মধে কুমারখালীতে ২ লাখ ৮১ হাজার ৮’শ এবং খোকসায় ১ লাখ ১৯ হাজার ২১১জন ভোটার রয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মতামত অনুযায়ী, যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আর যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যত গ্রুপিংই থাক না কেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

 

 

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।
গেলো ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম সন্দেহে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে সমর্থন করে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন করা হবে বলেও মার্কিন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর