জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে বিএনপির আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এমন ব্যবস্থায় নির্বাচন হলে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তিনিও সেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তবে নতুন দল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি যখন সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যস্ত তখন নতুন দল গঠন করে বিএনপির সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে সোমবার জানিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
তার এই বক্তব্যের পর আলোচনায় আসেন দীর্ঘদিন চুপ থাকা বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান। একাত্তরকে মেজর হাফিজ জানান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার তত্ত্বাবধানে হলেও বিএনপির আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে দলের মনোনয়ন নিয়েই তিনি নির্বাচনে যেতে আগ্রহী।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যস্ততায় যদি নির্বাচনের ব্যবস্থা হয় তবে তাতে বিএনপির অংশগ্রহণ করা উচিত। বিএনপি নির্বাচন করলে আমিও করবো।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি-জামায়াত জোট। ওই সময় তাদের আন্দোলনে ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। এরমধ্যে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
এরপর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে ওই নির্বাচনে প্রথমে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। পরে ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি নতুন জোট ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে তাতে অংশ নেয়। সে নির্বাচনে ভরাডুবির পর ‘আগের রাতে ভোট হয়ে যাওয়ার’ অভিযোগ তোলে বিএনপি।
এবার ভোটের আগে সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি হরতাল অবরোধ ফিরিয়ে এনেছে। গত ২৮ অক্টোবর সংঘর্ষের মধ্যে তাদের সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর দেশে হরতাল-অবরোধের মত কর্মসূচিদিয়েছে দলটি।
দলটির মহাসচিবসহ কয়েকশ নেতাকর্মী ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তফসিলের প্রস্তুতি নিতে থাকা নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও তারা যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিনকে ঘিরে নানা জল্পনা চলছে। বলা হচ্ছে, দল ছাড়াই আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন তিনি।
তবে নিবন্ধিত কোনো দলে যোগ দেওয়া বা নতুন দল গঠন করে নির্বাচনে যাওয়ার খবর নাকচ করে দিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, আমি বর্তমানে অসুস্থ।
এদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন এসব ষড়যন্ত্র আগেও হয়েছে এখনও হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ নেই। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেনা বিএনপি।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, এক-এগারোর সময় কম চেষ্টা হয়নি। দল ভাঙবে না।
২০০৭ সালে এক এগারোর সময় বিএনপির সংস্কারপন্থী অংশের মহাসচিব ছিলেন মেজর হাফিজ। পরে বিএনপি চেয়ারপারসন তাকে দলে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু ২০২০ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শাও নোটিশ পান মেজর হাফিজ ও শওকত মাহমুদ। নোটিশের জবাব সন্তোজনক হওয়ায় পদে থাকেন হাফিজ। আর বহিষ্কৃত হন শওকত মাহমুদ।
