ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র, গত দুই ভোটে এমনটাই দেখেছেন দেশের মানুষ। আর এবারও আসনটিতে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ভোটাররা।
ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা গঠিত আসনটিতে এবারো নৌকার প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা কাজী জাফর উল্লাহ। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা পেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাফর উল্লাহ। তবে এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান।
তবে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নিক্সন চৌধুরী বলছেন, স্বতন্ত্র হলেও নৌকার আসল প্রার্থী তিনিই।
কাজী জাফর উল্লাহর দুর্গে প্রথমবার ২০১৪ সালে হানা দিয়েই স্বতস্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন পাশের জেলা মাদারীপুরের প্রভাবশালী রাজনীতিক পরিবারের সন্তান ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র চৌধুরী মজিবুর রহমান নিক্সন।
নির্বাচিত হওয়ার পর ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনে তাঁর কর্মী সমর্থক বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। আর এর প্রভাব পড়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে। নৌকা প্রতীক না পেলেও তৃণমূল আওয়ামী লীগের একটি অংশ নিক্সনকেই তাদের নেতা মানছেন।
এক ভোটার বলেন, সে নৌকা প্রতীকের বাইরে আছে হয়তো। কিন্তু উনি কখনো আওয়ামী লীগের বাইরে নয়।
আরেক ভোটার বলেন, এলাকায় সে যতো উন্নয়ন করেছে, এরকমটা এর আগে কখনো পাই নাই। আর কাজী জাফর উল্লাহ নৌকা প্রতীক নিয়েও বারবার হেরে যাচ্ছেন।
তবে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সব কর্মী সমর্থককে নিজের পক্ষে টানতে পারেননি নিক্সন। একটি অংশ ব্যক্তি নয়, নৌকা প্রতীকেই আস্থা রাখতে চাচ্ছেন।
জাফর উল্লাহর পক্ষের এক ভোটার বলেন, আমরা ভোট দেবো নৌকায়। আমাদের পাশে, কাছে যে থাকবে তাকে আমরা ভোট দেবো।
তবে বেশ কিছু সাধারণ ভোটার বলছেন, তারা সেই নেতাকেই ভোট দিবেন, যাকে দু:সময়ে কাছে পান। করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিক্সনকে কাছে পাওয়ার কথা জানান তারা।
আবার দুইবার হারানো আসনটি ফিরে পেতে মরিয়া নৌকার প্রার্থী কাজী জাফর উল্লাহ। একাত্তরকে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র এমপি। তিনি কিন্তু জোরজবরদস্তি করে সব ভোট কেটে নিয়ে গেছেন।
‘নৌকার লোকজনকে হুমকি দিয়ে সব বের করে দিয়েছেন। অস্ত্র, গুন্ডা এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট নৌকার পক্ষে দিতে দেয়নি।’
জাফর উল্লাহ আরো বলেন, আর নিক্সনের সঙ্গে এলাকার বিএনপি-জামায়াত শিবিরের বিশাল একটা জোট আছে।
মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন একাত্তরকে বলেন, তাকে যে কো-চেয়ারম্যান করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটা উনার যোগ্যতা অনুযায়ী করা হয়নি। উনাকে সুন্দর সম্মানের সঙ্গে এক্সিটের জন্য বানানো হয়েছিলো। উনি এটা বুঝতে পারছেন কিনা জানি না।
‘এই ব্যক্তি দুইবার পরাজিত হয়েছেন নৌকা মার্কা নিয়ে। যে নিজের এলাকা ঠিক রাখতে পারেন না, সে বাংলাদেশের ৩০০ আসন কীভাবে দেখবেন।’
নিক্সন আরো বলেন, বৈঠা-নৌকা সবই আমি। এই তিন থানার মানুষ জানে, আমি আসল নৌকা।
এদিকে আওয়ামী লীগের মধ্যে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নিতে চান জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আনোয়ার হোসেন। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কারণে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হবে এমন আশায় রয়েছেন তিনি।
আনোয়ার হোসেন একাত্তরকে বলেন, এই আসনে আগে থেকেই লাঙ্গলের ভোট আছে। আমি আশা করি এই ভোটটা আমার পক্ষে আসবে।
নৌকার দুর্গ হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৬ জন।
