এরশাদের রেখে যাওয়া জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে বলে দাবি করেছেন জাপার একাংশের চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ।
তিনি বলেছেন, যে দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী দক্ষতা ও যোগ্যতায় এখনও সরকার পরিচালনার স্বপ্ন দেখছে, সেই দলটির সাংগঠনিক অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পল্লীবন্ধু এরশাদের রেখে যাওয়া জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে জাতীয় পার্টির একাংশের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
রওশন এরশাদ বলেন, পার্টি থেকে এরশাদের নামটাও প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে। পার্টির এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের অগণিত এরশাদ পাগল নেতাকর্মীর দাবির মুখে এক কঠিন পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টিকে রক্ষার জন্য আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি।
সাবেক বিরোধী রধীয় নেতা রওশন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য স্তরের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমরা জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলন প্রসঙ্গে আলোচনা করেছি। প্রাথমিকভাবে আমরা ২ মার্চ জাতীয় পার্টির দশম সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু পবিত্র রমজানের আগে রাজধানীতে নানা আনুষ্ঠানিকতা থাকায় এবং ওইদিন সম্মেলনের জন্য উপযুক্ত ভেন্যু না পাওয়ায় আমরা তারিখ পরিবর্তন করে ৯ মার্চ দশম জাতীয় সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করেছি।
পার্টির সব স্তরের নেতাকর্মীদের জাতীয় পার্টির দশম জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান রওশন এরশাদ।
রওশন নেতৃত্বাধীন দলের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, জাতীয় পার্টির বিভক্ত হওয়া সকল পক্ষ কাউন্সিলে উপস্থিত থাকবে তাদের সাথে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক ভাবে টিকে থাকতে হলে জিএম কাদের, মুজিবুল হক চুন্নুসহ সবাইকেই রওশান এরশাদের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় পার্টিতে ফিরতে হবে। সংসদে যারা আছেন তারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন আর দল দলের মত করে পরিচালিত হবে এতে কোনো সংকট হবে না।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি রওশনে, তার ছেলেসহ কয়েকজন নেতা। ভোটের পর রওশর নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। তবে তাতে পাত্তা দিচ্ছেন না জি এম কাদের।
