নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং পুলিশ প্রশাসনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অফিসারই একটি দলের হয়ে কাজ করছে বলে প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার দাবি, বেশির ভাগ প্রসিকিউটররা একটি বিশেষ দলের। প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তিনি জানান, তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) নির্বাচনের আগে যেখানে যেখানে রদবদল করা দরকার তা লটারির মাধ্যমে করবেন। তবে, তাহেরের অনুরোধ লটারির পেছনে যেন কোনো ‘ভূত’ না থাকে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
শুরুতে রাষ্ট্রীয় সফরে দলগুলোকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান তাহের। পরে জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বলেন, সংস্কারগুলোর ওপর দলিল তৈরির জন্যে সবাই সই করেছি।
তিনি বলেন, এখন প্রয়োজন জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং বাস্তবায়ন। আগামী নির্বাচনের আগেই আমরা এগুলো করতে বলেছি। একটি আদেশের মাধ্যমেই এটাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে বলেছি, প্রধান উপদেষ্টা একমত হয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট নয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রধান উপদেষ্টাকে জারি করতে বলেছি। একটা আদেশের মাধ্যমেই বৈধতা দিতে হবে এবং সেই বৈধতার নিয়েই গণভোট হবে।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জটিলতা তৈরির চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক নেই। তাই আমরা বলেছি আগে গণভোট হতে হবে।
‘জনগণের আবেগ’ দেখে জামায়াত গণভোটে রাজি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে তিনটি গণভোট হয়েছে। তার একটি নির্বাচনের ২১ দিন আগে এবং আরেকটি ৩৬ দিন আগে। সেদিক থেকে আমরা বলেছি গণভোট নভেম্বরের মধ্যেই হতে হবে।
নোট অব ডিসেন্টগুলো জটিলতা তৈরি করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দুটি দল বলছে আমরা মানি না। দুই একটা দলের জন্য তো এমন হতে পারে না। এগুলো জটিলতা তৈরি করে।
তাহের জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে বলেছি। দুই দিন আগে নোয়াখালীতে একটা ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থা এখন হলে নির্বাচনের সময় কী হবে!
প্রবাসীদের ভোটের ব্যবস্থা করার কথা বলা হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে আলোচনা করিনি জানিয়ে তাহের বলেন, সরকারের কয়েক জন উপদেষ্টার ব্যাপারে বলেছি, তারা আপনাকে ‘বিভ্রান্ত’ করে, ‘বিশেষ দলের’ হয়ে কাজ করে। তাদের বিষয়ে আপনার সতর্ক থাকা দরকার।
