বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো যুদ্ধ চায় না, শান্তি চায় উল্লেখ করে দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন মানুষের জীবন, সম্মান ও সম্পদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। তবে শান্তিকামী হলেও কারো কোনো অন্যায্য আঘাত আসলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিইবি ভবনে আয়োজিত ‘জাতীয় উলামা প্রতিনিধি সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। এতে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ১০ জন করে নির্বাচিত উলামা প্রতিনিধি অংশ নেন।
সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে কোনো আধিপত্যবাদ বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে আর কারো দাদাগিরি চলবে না। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান বা মীর জাফরি আচরণ জনগণ মেনে নেবে না।
নেতাদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং গণভোট ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করে গণতন্ত্রবিরোধী ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে একই দিন বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ‘জুলাই এখনও শেষ হয় নাই’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ওপর সংগৃহীত বিরল চিত্র প্রদর্শনী ও প্রমান্যচিত্র ঘুরিয়ে দেখান।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষে জামায়াত আমির বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদ্দেশে তাদের ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের’ শিকার করা হয়েছে।
বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সরকার ও জনগণের মধ্যে ‘মালিক-প্রজা’ সম্পর্ক তৈরি করা হয়েছিরো। ফ্যাসিবাদের গঠনে অনেক গণমাধ্যমও সে সময় অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের মধ্যেও আমরা সেই পুরনো প্রশাসনিক বন্দোবস্তই দেখতে পাচ্ছি। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রকোপ কমেনি, বরং আগের চেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সংসদের ভেতরে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি না মানায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হলে শিগগিরই সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবে জামায়াত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যজোটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় ও জোটগত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
