তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী কিছু বিশেষ ঘটনা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২০ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আজকের গণনেতা হয়ে ওঠার পেছনে তিনটি বিশেষ সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিচে সংক্ষেপে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

তৃণমূল সম্মেলন (২০০২-২০০৬): তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম নেতা, যিনি এসি রুমে বসে রাজনীতি না করে একদম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে 'তৃণমূল সম্মেলন' শুরু করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলা, কৃষকের অভাব শোনা এবং স্থানীয় নেতাদের ক্ষমতায়ন করার এই কৌশলটিই আজ তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমেই তিনি বিএনপিকে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল থেকে 'তৃণমূল-বান্ধব' দলে রূপান্তর করেন।

এক এগারোর কারাবরণ ও শারীরিক নির্যাতন (২০০৭-২০০৮): ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে থাকাকালীন তাঁর ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে, তাঁর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। এই সময়টি ছিল তাঁর জীবনের কঠিনতম অগ্নিপরীক্ষা। সেই শারীরিক যন্ত্রণা এবং দীর্ঘ কারাবাস তাঁকে আরও সংযমী ও স্থিতধী করে তোলে। তিনি বুঝতে পারেন, কেবল ক্ষমতায় থাকা নয়, আদর্শের জন্য টিকে থাকাই আসল রাজনীতি।

আট হাজার মাইল দূর থেকে 'ভার্চুয়াল' নেতৃত্ব (২০১৮-২০২৪): ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবরণ করার পর তারেক রহমান লন্ডনে থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুরো দল পরিচালনা করেন। স্কাইপ বা জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রতিটি ইউনিটের নেতার সাথে সরাসরি যুক্ত হতেন। একটি দল যখন স্বৈরাচারী শাসনে বিলীন হওয়ার পথে ছিল, তখন সুদূর প্রবাসে থেকেও তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন- যা আধুনিক বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন: সবার আগে বাংলাদেশ

তারেক রহমানের রাজনীতি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের মেরামতের ওপর গুরুত্ব দেয়। তাঁর দর্শনের মূল স্তম্ভগুলো হলো-

রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা: তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী সংস্কার পরিকল্পনা বা '৩১ দফা' পেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার নিয়ম। এটি তাঁর ক্ষমতার মোহহীন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারবাদী মানসিকতার পরিচয় দেয়।

অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি: তিনি প্রায়ই বলেন, "বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বাংলাদেশ সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষের।" তিনি উগ্রবাদ বা প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে সব রাজনৈতিক দলের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরির দর্শনে বিশ্বাসী।

তৃণমূলের ক্ষমতায়ন: তাঁর দর্শনের মূলে রয়েছে- পরাশক্তি বা বহিঃশক্তির ওপর নির্ভর না করে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর আস্থা রাখা। তিনি মনে করেন, যদি তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলা যায়, তবেই দেশ দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে না।

প্রযুক্তি ও তরুণ সমাজ: তারেক রহমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারকারী। তিনি তরুণ প্রজন্মের মেধা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্মার্ট ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন।

জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা: ধৈর্যই পরম শক্তি

তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনেও আমরা দেখি চরম ধৈর্য। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুতে তিনি যখন একা বিদেশের মাটিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন, তখনো তিনি ভেঙে পড়েননি। মায়ের জন্য হাহাকার থাকলেও তিনি দেশের মানুষের অধিকারের কথা ভুলে যাননি। তাঁর জীবনের দর্শনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- বিপদে ধৈর্য ধরা এবং পরাজয়কে জয়ে রূপান্তর করার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষা করা।

এআরএস
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিদেশে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল দেশ, গণতন্ত্র ও সন্তানদের ভবিষ্যতের যে ক্ষতি করেছে তা ভুলে না যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে তৈরি হওয়া...
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম নিয়ে অনেক বিভাজন সৃষ্টি করা হয় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আমাদের রাজনীতিতে এই বিভাজন বিশ্বাস করি না।...
সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর