‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে হাসিনাকে মুক্তি পাবেন না’

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৫ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার পূর্বে এক আবেগঘন ও কঠিন রাজনৈতিক বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বেগম জিয়ার এই অকাল মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনো মুক্তি পাবেন না। 

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজার আগে তিনি দেশনেত্রীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং তাঁর ওপর হওয়া অন্যায়ের খতিয়ান তুলে ধরেন।

এ সময় নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ২০১৮ সাল থেকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ থাকাকালীন উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে বেগম জিয়া দারুণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সারা দেশবাসী সাক্ষী, দেশনেত্রী পায়ে হেঁটে কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু নির্জন কারাগার থেকে তিনি বের হলেন চরম অসুস্থতা নিয়ে। পরবর্তীতে গৃহবন্দী অবস্থায় চার বছর তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে 'অনন্ত অনুপ্রেরণা' আখ্যা দিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ব্যক্তিগত শত্রু হিসেবে গণ্য করেছিল। এরশাদ, ১/১১ সরকার এবং সর্বশেষ হাসিনা সরকার- সবাই তাঁকে কারারুদ্ধ করেছে। 

তিনি যোগ করেন, খালেদা জিয়া আধিপত্যবাদী শক্তির সামনে মাথা নত করেননি। স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েও তাঁকে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্ন থেকে বিচ্যুত করা যায়নি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজ দেশনেত্রী সব অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমাদের সামনে আছেন। অন্যদিকে যারা তাঁকে জেলে পাঠিয়েছে, যারা তাঁকে গৃহহীন করেছে, তারা আজ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের মাথার ওপর ঝুলছে মৃত্যু পরোয়ানা।

বিএনপির এই বর্ষিয়ান নেতার ভাষণে বেগম জিয়ার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো উঠে আসে। 

গণতন্ত্রের মাতা: ৯ বছর এরশাদবিরোধী লড়াই শেষে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় ফিরে তিনি 'আপসহীন দেশনেত্রী' ও 'গণতন্ত্রের মাতা' হিসেবে স্বীকৃতি পান।

নির্বাচনী রেকর্ড: নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, প্রতিটি নির্বাচনে বেগম জিয়া যত আসনে দাঁড়িয়েছেন, সব কটিতেই জয়ী হয়েছেন। পরাজয় তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি, যা বিশ্বে বিরল।

উন্নয়ন ও জনকল্যাণ: তাঁর সময়েই বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে পরিচিতি পায়। নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি, ‘শিক্ষার জন্য খাদ্য’ এবং মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় তাঁর যুগান্তকারী কাজ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দুই শিশুপুত্রসহ তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী ছিলেন, যা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নজরুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যের শেষে দেশনেত্রীর একটি বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করেন- দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। বাংলাদেশই হলো আমার ঠিকানা। তিনি বলেন, প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতেই আজ তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এবং স্বামীর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।

বক্তব্য শেষে তিনি প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং উপস্থিত সব রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে অবিচল থাকবে।

একাত্তর/এসি
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিদেশে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল দেশ, গণতন্ত্র ও সন্তানদের ভবিষ্যতের যে ক্ষতি করেছে তা ভুলে না যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে তৈরি হওয়া...
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম নিয়ে অনেক বিভাজন সৃষ্টি করা হয় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা আমাদের রাজনীতিতে এই বিভাজন বিশ্বাস করি না।...
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন। রোববার (১২ জুলাই) ভোর সোয়া চারটার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর