সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক আচরণ বিবেচনা করে দেশে আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের কোনো শিক্ষাঙ্গনে বা সমাজে আক্রমণ হলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ১০টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল, ব্যানার ও ফেস্টুনসহ নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের আগেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট ও আশপাশের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার দেশের মানুষের কাছে নিজেদের প্রতারক হিসেবে প্রমাণ করেছে। হাসপাতালগুলোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধারা এখনো সুচিকিৎসার অভাবে কাতরালেও সেদিকে সরকারের কোনো নজর নেই। অবিলম্বে জুলাই যোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া এবং তাদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান তিনি।
ছাত্রদলের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান, আপনি তাদেরকে থামান। সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। -ডা. শফিকুর রহমান
জনগণের রায় ও গণভোটের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের জনমত ও গণরায় মেনে নিন, ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান করবেন না। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের রায়কে অস্বীকার করেছে, তাদের অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। গণভোটের রায় নিয়ে আপস করার জন্য আমাদের ওপর নানাভাবে চাপ ও লোভ দেখানো হচ্ছে। কিন্তু স্পষ্ট করে বলতে চাই—জীবনের বিনিময়ে হলেও জনগণের গণরায়ের পাহারাদারি করা হবে এবং এই দাবি আদায় ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা ও অন্যায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক সবাই চরম আতঙ্কে আছেন এবং পুরনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি আবার ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যায় দেখলে আর বসে না থেকে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ডাক দেন তিনি। একই সঙ্গে গ্যাসের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও ফ্যাসিবাদী চর্চা বলে আখ্যা দেন জামায়াত আমির।
সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো প্রকার গড়িমসি সহ্য করা হবে না। গণভোটের গণরায় না মানলে সরকার দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ১১-দলীয় জোটের অন্য শীর্ষ নেতারাও তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের মাত্র দুই বছরের মাথায় সরকার দেশের জনগণের সঙ্গে বিভক্তির রাজনীতি শুরু করেছে।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের স্থান হবে না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজপথের এ আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে আহত জকসু নেতাদের দেখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান, আপনি তাদেরকে থামান। সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
