প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সুযোগ পাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে অস্ট্রেলিয়া। উড়তে থাকা পাকিস্তানকে মাটিতে নামিয়ে পাঁচ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারেরা।
বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টস জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া।
২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে এক ওভার বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ১৯ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে অজিরা করে ১৭৭ রান।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে ৯.৫ ওভারে ৭০ রানের জুটি গড়ে ফেরেন ওপেনার বাবর আজম। দশম ওভারে অ্যাডাম জাম্পার করা ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন অধিনায়ক বাবর আজম। ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩৪ বলে পাঁচটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৯ রান করে এ তারকা ব্যাটসম্যান।
এরপর ফখর জামানকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৬ বলে ৭২ রানে জুটি গড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১৭.২ ওভারে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন রিজওয়ান। তার আগে ৫২ বলে তিন চার ও ৪টি ছক্কায় করেন দলীয় সর্বোচ্চ ৬৭ রান।
চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে ফেরেন আসিফ আলী। তবে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে যান ফখর জামান। তার ৩২ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় গড়া ৫৫ রানের সুবাদে ১৭৬ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওভারেই মাত্র ১ রানে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের উইকেট হারায় অসিরা।
এরপর দলের হাল ধরেন ওয়ার্নার। তিনে ব্যাটিংয়ে নামা মিচেল মার্শকে সঙ্গে নিয়ে ৩৬ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন ওয়ার্নার। কিন্তু ফের অসি শিবিরে আঘাত হানেন শাদাব খান। মিচেল মার্শকে আউটের পর ওয়ার্নারের উইকেটটিও তুলে নেন। শাদাবের বলে উইকেটকিপার রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওয়ার্নার।
হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান বাকি থাকতে সাজঘরে ফিরলেন এই অসি মারকুটে ব্যাটার। সমান ৩ বাউন্ডারি ও ছক্কায় মাত্র ৩০ বলে ৪৯ রান করেন তিনি।

শাদাবের ঘূর্ণিতে ৯৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। এরপর অবশ্য অলরাউন্ডার মার্কুস স্টইনিসের ব্যাটে ভর করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাথু ওয়েডকে নিয়ে জুটি বড় গড়েন স্টইনিস।
শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন পড়ে ৩৭ রানের। হাতে ৫ উইকেট। খেলার এই পর্যায়ে টান টান উত্তেজনা। এ সময় দলের ত্রাতা হয়ে আসেন ম্যাথিউ ওয়েড।
আরও পড়ুন: মেসির ব্যালন ডি’আর জয়ের খবর ‘বড় ধোঁকা’
হাসান আলির করা ১৮তম ওভারে ছক্কা হাকিয়ে ১৫ রান তোলেন ওয়েড। অর্থাৎ ১২ বলে প্রয়োজন ২১ রানের। ১৯তম ওভারটি করেন শাহিন আফ্রিদি।
শাহিন আফ্রিদির পেসকে কাজে লাগিয়ে স্কুপ শটে ছক্কা হাঁকান ওয়েড। পরের বলকেও ছক্কা হাঁকান ওয়েড। পরের বলকেও ছক্কা হাঁকান ওয়েড। সেই ওভার থেকে আসে ২২ রান। এক ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ১৭ বলে ৪১ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন ওয়েড। যেখানে ২টি বাউন্ডারি ও ৪টি ছক্কার মার ছিল। স্টইনিস ৩১ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।
একাত্তর/আরএ
