এতো খুঁজলে হয়?
বেশি বাছলে কপালে খারাপটাই জোটে। কোচ নিয়োগে বিসিবি বাছাবাছিতে নাম্বার ওয়ান। বিসিবি যখন লিস্ট নিয়েই ব্যস্ত থাকে তখন অন্যরা খুঁজে নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। এই যেমন শন টেইট...শর্ট লিস্টে ছিলেন বটে তবে তার সাথে আলোচনার সময় হয়নি বিসিবির। আর তাই সাবেক এই স্পিডস্টার এখন পিসিবির ঘরে।
বিপিএলের মতো এতবড় একটা আয়োজন অথচ আগের রাত পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির নাই ঠিক। নাই কোনো ডিআরএস ব্যবস্থা। বিসিবি যেনো আজন্ম এক লেট লতিফ। স্লো এন্ড স্টেডি উইন দ্যা রেইস... সফলতার মূলমন্ত্র ধীর চলো নীতি।
তবে সবার বেলায় কী আর সব নিয়ম খাটে। এই যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, তারাতো সব নিয়মের উর্দ্ধে।
চলুন মিলিয়ে দেখি। এবারের বিপিএলে সবচেয়ে আলোচিত ছিলো ডিআরএস না পাওয়া , বিসিবি বলেছিলো, করোনার কারণে হক আইয়ের লোক সংকট তাই পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ পিএসএলে দিব্যি থাকছে সব ধরণের সুবিধা। তাহলে আমরা কেনো পেলাম না?
উত্তরটা হলো বিসিবি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে দেরি করে ফেলেছে তাই ওরা পেলেও আমাদের কপালে শুধুই এডিআরএস।
নিউজিল্যান্ড থেকে টেস্ট সিরিজ ড্র করে ফিরলো বাংলাদেশ। ঘটলো উল্টো ঘটনা। এবাদত, শরীফুল, তাসকিনদের বোলিং নৈপুন্যের পুরো কৃতিত্ব যখন গিবসনের কাধে তখনই বাংলাদেশকে না বলে দিলেন এই ক্যারিবিয়ান।
প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি জানালো, গিবসনই আর চুক্তি বাড়াতে চাচ্ছে না। অথচ পরে এই ফাস্ট বোলিং কোচ নিজেই বললেন, চুক্তি শেষ হলেও বিসিবি থেক তার সাথে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। অর্থাৎ আবারো বিসিবির লেট।
স্বাভাবিকভাবেই পেস বোলিং কোচের সন্ধানে বিসিবি। শর্ট লিস্টে উঠে আসলো দুটি নাম। লঙ্কান চামিন্দা ভাস আর অজি পেসার শন টেইট। এই অস্ট্রেলিয়ান কিন্তু বাংলাদেশ দলের খোঁজ খবর খুব ভালোই রাখেন।
এ যেনো মেঘ না চাইতেই জল। বিপিএলে চট্টগ্রাম দলের পেইস বোলিং কোচ হিসেবে চলে এলেন শন টেইট। তার ক্যারিশমায় এবারের আসরে মৃত্যুঞ্জয়, শরিফুল, রাজারা আলো ছড়াচ্ছেন বিপিএলে। আর এবারে যেহেতু টি-২০ বিম্বকাপ অজি যেরায় তাই টেইটকে ঘিরে নানা জল্পনা কল্পনা। টেইটকে কাছে পেতেই তাই জানতে চাওয়া। বাংলাদেশের কোচ হতে চান কিনা।
উত্তরে বললেন, ‘অবশ্যই আমি আগ্রহী পেস বোলিং কোচ হতে। তাদের হাতে অবশ্য সময় আছে, কাকে বেছে নেবে। তবে অবশ্যই আমার জন্য দারুণ হবে যদি দায়িত্ব পাই’
সময় নিলো বিসিবি। বিপিএল দেখবে তারপর আলোচনায় বসবে টেইটের সাথে। তবে আমাদের মতো অত সময় কারো নেই ...সবাই যে চলে সুপারসনিক গতিতে। টাইগারদের শর্ট লিস্টে থাকা কোচ এখন পাকিস্তানের। ঝোপ বুঝে কোপ মেরে এক বছরের চুত্তিতে পিসিবি লুফে নিলো এই স্পিডস্টারকে।
বিসিবি বরাবরই উনো বীজে, দুনো ফসল ঘরে তুলতে চায়। সবকিছুতেই গড়িমসি আবার ফল চাইবে ষোলোআনা খাঁটি। এইভাবে কচ্ছপ গতিতে চলতে থাকলে একদিন থাকবে না আর কিছুই।
একাত্তর/ এনএ
