শেষ পর্যন্ত ১০১ রানে থামলো বাংলাদেশের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে তুলে নেয় ২০৫ রান। তারপর সেই রান তারা করতে নেমে মাত্র ১৬.৩ ওভারেই শেষ বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারলেন সাকিব আল হাসানরা!
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৩০ অক্টোবর, ব্রিসবেনে। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।
রানের পাহাড়ে চাপা পড়ছে সাকিবরা
রানের পাহাড় যেন টপকাতে পারছে না টাইগাররা। উল্টো আরেকটি উইকেট হারাল বাংলাদেশ। রান আউট হয়ে ফিরলেন হাসান মাহমুদ।
আনরিক নরকিয়ার বলটি তাসকিন আহমেদ কাভারে খেলে রানের জন্য দৌড় দেন। কিন্তু সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন কাগিসো রাবাদা। ফলে ২ বলে শূন্য রান করে ফেরেন হাসান।
১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৯ উইকেটে ৯১।
উইকেটে রয়েছেন তাসকিনের সঙ্গী মুস্তাফিজুর রহমান।

আট উইকেট শেষ
একবার জীবন পেয়েও তেমন কিছু করতে পারেননি লিটন কুমার দাস। শেষ পর্যন্ত ফিরলেন তিনিও।
তাবরাইজ শামসিকে স্লগ করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন তিনি। একটি করে ছক্কা-চারে ৩১ বলে ৩৪ রান করে সাজঘরে ফিরলেন লিটন।
১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ৮৫।
সাজঘরে সোহানও
নিয়মিত বিরতিতে সাজঘরে ফিরছেন একের পর এক ব্যাটার। পিছিয়ে থাকলেন না নুরুল হাসান সোহানও।
স্পিনার তাবরাইজ শামসির করা ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ নেন দেন সোহান।
৬ বলে ২ রান করে ফিরলেন সোহান।
শূন্যতে থামলেন মোসাদ্দেক
শূন্যতে থামতে হলো মোসাদ্দেককে। মিরাজের পর দলের দায়িত্ব গিয়ে চাপে মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এসে রানের খাতাই খুলতে পারলেন না তিনি।
কেশভ মহারাজকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বল মিস করেন তিনি। আর এ সুযোগে মোসাদ্দেকের স্টাম্প ভেঙে দেন কুইন্টন ডি কক।
মাত্র ৩ বলে শূন্য রান করে ফিরে যান এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
১১ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৭৪।
এবার মিরাজেরও বিদায়
আফিফের পর পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
দশম ওভারে তাবরাইজ শামসিকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে লং-অফে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১৩ বলে ১১ রান করে ফিরলেন মিরাজ।
৫ উইকেট হারিয়ে ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৬৬ রান। ৬০ বলে প্রয়োজন ১৪০ রান।
২১ রানে খেলছেন লিটন। উইকেটে তার সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন।
পাওয়ারপ্লেতে বিপাকে টাইগাররা
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভালোভাবেই শুরুটা করলো বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার আর নাজমুল হোসেনের কল্যাণে প্রথম ওভারে ১৭ রান যোগ হয় টাইগারদের স্কোর বোর্ডে।
কিন্তু তৃতীয় ওভারে আনরিখ নরকিয়ার আক্রমণে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল বাংলাদেশের ইনিংস। পাওয়ারপ্লেতেই ৪ উইকেট খুইয়ে অনেকটা দিশেহারা টাইগাররা।
তৃতীয় ওভারের শুরুতেই দুই ছক্কা হাঁকানো সৌম্যকে ফিরিয়ে দেন নরকিয়া। সৌম্য ফিরে যাওয়ার দুই বল পরই তার রাস্তা ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ৯ রান করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। নরকিয়ার বলে বোল্ড হন তিনি।
বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটটাও গেছে নরকিয়ার দখলেই। সাকিব আল হাসানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।
পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে রাবাদাকে মিড অফের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন আফিফও। তাতে বাংলাদেশ পাওয়ারপ্লেতে ৪৭ রান তুলতেই খুইয়ে ফেলে ৪ উইকেট।

২০৬ রানের লক্ষ্য পেলো বাংলাদেশ
ইনিংসের শেষ দিকে বোলিংয়ে লাগাম টানার চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শেষ হয়েছে ২০৫ রানে। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য এখন ২০৬ রানের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ২০৫/৫ (বাভুমা ২, ডি কক ৬৩, রুশো ১০৯, স্টাবস ৭, মারক্রাম ১০, মিলার ২*, পার্নেল ০*; তাসকিন ৩-০-৪৬-১, মিরাজ ৩-০-৩২-০, হাসান ৪-০-৩৬-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২৫-০, মোসাদ্দেক ২-০-১৬-০, সাকিব ৩-০-৩৩-২, আফিফ ১-০-১১-১)
হাসান মাহমুদের শিকার মারক্রাম
ইনিংসের শেষ ওভারে দলকে আরও এগিয়ে নিতে মারমুখী হন এইডেন মারক্রাম। কিন্তু সহজ ক্যাচ দিয়ে তাকেও ফিরতে হলো।
হাসান মাহমুদের ওভারে আরও এক উইকেটের পতন। ১১ বলে ১০ রান করে ফিরলেন মারক্রাম।
এবার ফিরলেন রুশো
দলকে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি উপহার দেয়ার পর সাকিবকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ক্যাচ তুলেও দেন রুশো।
৫৬ বলে আট চার ও সাত চারে ১০৯ রান করেন রুশো।

জুটির রেকর্ড গড়ে ফিরলেন ডি কক
রাইলি রুশোর সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ জুটি উপহার দিয়ে সাজ ঘরে ফিরলেন কুইন্টন ডি কক। আফিফ হোসেনের অফ স্পিনে লং অফে ক্যাচ তুলে দেন ডি কক। ৩৮ বলে তিন ছক্কা ও সাত চারে তার রান ৬৩।
তার বিদায়ে ভাঙে ১৬৮ রানের রেকর্ড জুটি। বিশ্বকাপে আগের সর্বোচ্চ জুটিতে রান ছিল ১৬৬। ২০১০ আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। সেটিও ছিল দ্বিতীয় জুটিতেই।
রুশোর সেঞ্চুরি
দক্ষিণ আফ্রিকার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রুশোর ব্যাট থেকে এলো বিধ্বংসী শতক। ৫২ বলে ৭টি করে ছক্কা-চারে তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি।
বিশ্বকাপের চলতি আসরে এটাই প্রথম সেঞ্চুরি।
ডি ককের ফিফটি
রাইলি রুশোর পর এবার ফিফটি করলেন কুইন্টন ডি কক। বাঁহাতি এই ওপেনার পঞ্চাশ করতে খরচ করেন ৩৪ বল।
অন্য প্রান্তে ৪১ বলে ৮০ রান নিয়ে নট আউট রুশো। সাত ছক্কার সঙ্গে তার ইনিংসে চার চারটি।
আর ১৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১ উইকেটে ১৩৭। বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার যা সর্বোচ্চ।
রুশোর ফিফটি
মারমুখী ব্যাটিংয়ে ৩০ বলে ফিফটি করলেন রাইলি রুশো। এ সময়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে চারটি ছক্কা ও দুটি চার।
শুরুর উইকেট হারানোর চাপ সামলে ভালো অবস্থানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০ ওভারে ১ উইকেটে দলটির সংগ্রহ ৯১ রান।
পঞ্চাশ রানে খেলছেন রুশো, সাথে ২৬ বলে কুইন্টন ডি ককের রান ৩৭।
ঘুরে দাঁড়ালো দক্ষিণ আফ্রিকা
শুরুটা ভালো হলেও চাপে পড়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। আর এ সুযোগে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলছেন রাইলি রুশো ও কুইন্টন ডি কক।
প্রথম ৬ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১ উইকেটে ৬৩। ৩ ছক্কা ও ২ চারে ১৮ বলে ৩৬ রানে খেলছেন রুশো। ১ ছক্কা ও ৩ চারে ডি ককের রান ১৪ বলে ২৩।
আবার খেলা শুরু
বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হলো খেলা। কমেনি ওভার।
শুরুতেই তাসকিনের আঘাত, বাধা হয়ে দাঁড়ালো বৃষ্টি
বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে ম্যাচ গড়ালেও শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়ালো সেই বৃষ্টি। বর্তমানে খেলা বন্ধ রয়েছে।
এরআগে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা।
কিন্তু শুরুতেই তাসকিনের আঘাতে বিপাকে পড়েছে প্রোটিয়ারা। তাসকিন শুরুর ওভারেই ফিরিয়ে দিয়েছেন দলটির অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে।
তাসকিনের প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন বাভুমা। দলীয় ২ রানেই প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
৫ ওভার ৩ বলে এক উইকেটের বিনিময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৬০ রান।

টস জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠালো দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির আজকের ম্যাচ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
টসে হেরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা টস জিতে নিয়েছেন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত।
এর আগে বিশ্বকাপের গ্রুপ ২-এ বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে টাইগাররা।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পেতে দক্ষিণ আফ্রিকার যখন মাত্র ১৩ রান দরকার, তখনই বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ১টি করে পয়েন্ট যায় দুই দলের খাতায়।
বাংলাদেশ: নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, আফিফ হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ এবং মুস্তাফিজুর রহমান।
দক্ষিণ আফ্রিকা: কুইন্টন ডি কক, টেম্বা বাভুমা, রাইলি রুশো, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস, ওয়েন পার্নেল, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নরকিয়া, তাবরাইজ শামসি।
একাত্তর/আরবিএস
